বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকে গা-ঢাকা দিয়েছিলেন। কালের গতিতে মানুষ ভুলতে শুরু করেছিল। কিন্তু এবার ভিনরাজ্য বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেপ্তার করা হল হাসনাবাদের দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা বিশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান শহিদুল শেখকে। তাঁকে বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেপ্তার করল হাসনাবাদ থানার পুলিশ এবং বসিরহাট জেলা পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ। এই শহিদুল শেখ উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদের বিশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের উপপ্রধান পদে রয়েছেন। এই শহিদুল শেখের বিরুদ্ধে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ রয়েছে। তৃণমূলের উপপ্রধানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা রয়েছে হাসনাবাদ থানায়।
আর অভিযোগ আছে শহিদুল জানেন বলেই ফলাফলের পর গা-ঢাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে খুব সুবিধা করে উঠতে পারেননি তিনি। এই নেতার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো, তোলাবাজি, পঞ্চায়েতে দুর্নীতি-সহ একাধিক অভিযোগ আছে। স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের ভয় দেখানো থেকে শুরু করে মারা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিজেপি কর্মী নিতাই দাসের দোকানে রাতের অন্ধকারে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগও আছে তাঁর বিরুদ্ধে। বিধানসভা নির্বাচনের সময় হাসনাবাদ থানার বিশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাইলানি বাজারের ওই দোকান আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছিল এই শহিদুল শেখের দলবল বলে অভিযোগ।
বিজেপি কর্মীদের মারধর, দোকানে আগুন লাগানো, ভোট পরবর্তী হিংসা, এলাকায় অশান্তি, তোলাবাজি, মস্তানি, পঞ্চায়েতের টাকা হাতানো, বিজেপি কর্মীদের খুনের হুমকি দিয়ে বাড়িছাড়া করা এসব অভিযোগ তো ভুরি ভুরি আছে। বিশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের উপপ্রধান শহিদুল শেখ ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। এইসব ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন তৃণমূল নেতা। হাসনাবাদ থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত নেমে ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে। তাতেই পুলিশ জানতে পারে, বেঙ্গালুরু শহরে গা-ঢাকা দিয়ে আছেন তিনি। তখনই তাঁকে ধরতে হাসনাবাদ থানার পুলিশের একটি দল সেখানে রওনা হয়।
এরপর সেখানে গিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা বিশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান শহিদুল শেখকে। আর ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে এসে আগামী সোমবার বসিরহাট মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। রবিবার বেঙ্গালুরুর আদালতে তোলা হবে। সোমবার হাসনাবাদ থানায় নিয়ে আসা হবে। আগুন লাগানোর ঘটনায় তাঁর ভূমিকা এবং ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত সেটা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।