‘মমতাই দল মমতাই সিম্বল’, উপনির্বাচনের প্রাক্কালে নেত্রীর পাশে আদি নেতারা

Mamata Banerjee Photo-SNS

এবার রেজিনগর এবং নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হতে চলেছে। দলের নাম এবং প্রতীক বদল হয়েছে। মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নতুন নাম দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আর প্রতীক ফুটবলার। তাই চ্যালেঞ্জ আছে বিস্তর। নন্দীগ্রাম আসন কংগ্রেসকে ছেড়ে দিয়েছে তৃণমূল। তবে লড়াই করছে রেজিনগরে নতুন নাম-প্রতীক নিয়েই। প্রথমে এই চ্যালেঞ্জ নেওয়া থেকে পিছিয়ে যাওয়ার কথা বললেও তৃণমূলনেত্রীর একটি ফোন খেলা ঘুরিয়ে দিয়েছে। তাই আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রবিউল আলম চৌধুরী। বিস্তর প্রতিকূল পরিস্থিতি উপেক্ষা করে আদি নেতারা নেত্রীর পাশে আছেন। আগামী দিনেও থাকবেন। এমন বার্তাই দিয়েছেন বেশ কিছু আদি নেতা।

এদিকে এখন তৃণমূল বিরোধী আসনে। তাই অনেকেই ছেড়ে চলে গিয়েছেন। সাংসদদের বড় অংশ থেকে শুরু করে বিধায়কদের একটা পৃথক ব্লক গড়ে উঠেছে। তার জেরে দলের নাম-প্রতীক নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বকে। এমন আবহে মমতা তৃণমূলের খড়গপুরের বর্ষীয়ান নেতা জওহর পাল, দেবাশিস চৌধুরী, কেশপুরের মহম্মদ রফিক কিংবা শালবনির জ্যোতিপ্রসাদ মাহাতোরা একসুরে বললেন, ‘মমতাই দল, মমতাই সিম্বল!’ তাঁদের মতে, দলের নাম এবং প্রতীক নির্বাচন কমিশন কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু নেত্রীকে তাঁদের কাছ থেকে কেড়ে নিতে পারেনি।

অন্যদিকে এখন যা পরিস্থিতি তাতে নতুন করে দলকে ঢেলে সাজাতে হচ্ছে। যে দলের নাম-প্রতীক নিয়ে তিনবার পর পর পশ্চিমবঙ্গ শাসন করেছে তৃণমূল সেটাই এখন পড়েছে চ্যালেঞ্জের মুখে। এই আবহে ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার জন্মলগ্ন থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে আছেন কর্মীরা এবং আদি নেতারা। তাই এখনের অবস্থা দেখে তাঁদের চোখে জল এলেও তাঁরা যে নেত্রীর পাশ থেকে সরবেন না সেটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। খড়গপুরের প্রাক্তন পুরপ্রধান তথা বর্ষীয়ান নেতা জওহর পাল বলেন, ‘আমি ১৯৯৮ সাল থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের সৈনিক। একদিন যারা সবথেকে বেশি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছিল, আজ তারাই বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে দলটাকে শেষ করল। রাজ্যের এখন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু আধিকারী-সহ তাঁর পরিবারের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক অনেক দিনের। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা থাকবে। বিজেপি করলে তাঁর হাত ধরে অনেক আগেই যেতে পারতাম। কিন্তু মমতার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা সম্ভব নয়!’


তাছাড়া তৃণমূলের টিকিটে জিতেই এখন বিজেপির হাত শক্ত করতে গিয়েছেন অনেকে। আবার নিজেদের কুকর্ম ঢাকতেই এবং নিজেদের বাঁচাতেই অন্য শিবিরে ভিড়েছেন অনেকে। এমনই দাবি আদি নেতাদের। এমন প্রেক্ষাপটে কেশপুরের মহম্মদ রফিক বলেন, ‘১৯৯৮ সাল থেকে তৃণমূল করি। ২০০০ সালে রাজ্য যুব তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক করেছিলেন নেত্রী। কেশপুর থেকে কলকাতা, পাঁশকুড়া থেকে হাওড়া, সিপিএমের হার্মাদদের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছি। পাঁশকুড়া উপনির্বাচনে দল জিতেছে। পরে মিথ্যা মামলায় জেলে গিয়েছি। বিনিময়ে হয়তো কিছুই পাইনি। তবুও ইমান বিক্রি করতে পারব না।’