‘কারও মুখের দরকার পড়ে না’, রচনা-কল্যাণের ক্যাঁচাল চরমে উঠল

রাজ্য-রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেস এখন কোণঠাসা। দল ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছে। সাংসদদের বড় অংশ এখন এনসিপিআই দলে নাম লিখিয়েছে। বিধায়কদের পৃথক গোষ্ঠী বিধানসভা আলো করে বসেছে। তার মধ্যে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আক্রমণ সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে ধেয়ে এসেছে। পাল্টা দিয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। জবাব মিলেছে তারও। এবার আবার শ্রীরামপুরের সাংসদ সুর চড়িয়েছেন হুগলির সাংসদের বিরুদ্ধে। দু’পক্ষের ক্যাঁচালে এখন সরগরম হয়ে উঠেছে রাজনীতির ময়দান।

রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি কাঠগড়ায় তুলেছিলেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁর দাবি ছিল, তাঁর মুখ ব্যবহার করে হুগলি আসন জিতেছিল তৃণমূল। এত দুর্নীতি হয়েছিল জানা থাকলে এই দলে যোগ দিতেন না। রাস্তার থেকে কাউকে ভোটে দাঁড় কেন করলেন না? তাঁকে ইউস করা হয়েছে। এবার নেত্রীকে আক্রমণের জবাবে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোপ, ‘ওনাকে ব্যবহার করা হচ্ছে তাহলে এলেন কেন? বাচ্চা মেয়ে নাকি? দিদি ডাকল বলে চলে গেলেন?’ রচনা-সহ ২০ জন সাংসদ এখন এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন। তারপর থেকেই ক্যাঁচাল শুরু হয়েছে।

রচনা কদিন আগে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেছিলেন তখন কল্যাণকেও ছাড়েননি। উনি কথা বলতে জানেন না, সম্মান দেন না-সহ নানা অভিযোগ তুলেছিলেন হুগলির সাংসদ। এবার রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় নিশানা করলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘উনি ২০২৪ সালের আগে জানতেন না পার্থ চট্টোপাধ্যায় গ্রেপ্তার হয়েছেন, কেষ্ট গ্রেপ্তার হয়েছেন? আর উনি যদি ওনার মুখটা জেনে বুঝে ইউস করতে দেন তাতে কার কী করণীয়! অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী মিতালি বাগকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এনে সাংসদ করেছেন। ওনার নামটাই যথেষ্ট। আর কারও মুখের দরকার পড়ে না।’


এবার রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসে কেন এসেছিলেন? কেন চলে গেলেন? তা নিয়ে সুর চড়ালেন সাংসদ-আইনজীবী। তাতে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিয়েছেন তিনি বলে মনে করছেন অনেকে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ‘স্বামীর ঠিকাদারি জন্য বলতে এসেছিলেন, হয়নি বলে এত রাগ। এত যে কথা বলছেন, ওনার হাতে কটা সিনেমা আছে? মা-কাকিমার রোল ছাড়া তো দেবে না কেউ। এতদিন লোকসভায় যা প্রশ্ন করেছেন সব তো অভিষেকের অফিস থেকে করে দেওয়া। ওনার যা শিক্ষাগত যোগ্যতা তাতে এত প্রশ্ন করার ক্ষমতা আছে নাকি? উচ্চ মাধ্যমিক পাশ তো! তারকারাই দলটাকে শেষ করে দিল।’