দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে সম্ভাব্য অশান্তি সৃষ্টিকারীদের তালিকা প্রকাশ এবং গ্রেপ্তারির নির্দেশ ঘিরে ফের আইনি লড়াই শুরু হল। এই ইস্যুতে আবারও কলকাতা হাই কোর্ট-এর দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
রাজ্যের শাসকদলের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, আদালতের আগের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন নতুন করে ‘সমস্যা সৃষ্টিকারী’দের তালিকা প্রকাশ করেছে এবং প্রায় ৩৫০ জনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের কথা বলেছে। এই নিয়ে দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেন-এর ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি দায়ের করার অনুমতি দিয়েছে। ফলে খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে শুনানি হতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, রাজ্যের ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রে সম্ভাব্য অশান্তি ঠেকাতে চিহ্নিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় দফার ভোটের দু’দিন আগে পর্যন্ত মোট ১৫৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এর আগে একই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছিল কলকাতা হাই কোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল, শুধুমাত্র ‘সমস্যা সৃষ্টিকারী’ বলে চিহ্নিত করে ঢালাও গ্রেপ্তারি করা যাবে না।
বিচারপতিদের মতে, নাগরিকের স্বাধীনতা শুধুমাত্র আইনের নির্দিষ্ট বিধি মেনেই সীমিত করা সম্ভব। কোনও ব্যক্তি অপরাধ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যাবে, কিন্তু সতর্কতামূলক আটকও নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই করতে হবে।
আদালত আরও জানায়, সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা থাকলেও তা সীমাহীন নয়। অন্য প্রযোজ্য আইন থাকলে সেই আইনের পথেই পদক্ষেপ করতে হবে।
এই ইস্যুতে তৃণমূলের অভিযোগ, কমিশনের এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং নির্দিষ্ট একটি দলের কর্মীদের টার্গেট করা হচ্ছে। এর আগে প্রায় ৮০০ কর্মী গ্রেপ্তার হতে পারেন—এই আশঙ্কা থেকেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল।
ভোটের আগে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।