তৃণমূলের পদ ছাড়লেন ইটাহারের বিধায়ক, ঋতব্রত শিবিরে যাওয়ার তুমুল গুঞ্জন

এবার ইটাহারের বিধায়ক মোশারফ হোসেন তৃণমূল কংগ্রেসের সংখ্যালঘু সেলের রাজ্য সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন। তৃণমূল কংগ্রেস বিরোধী আসনে বসার পর থেকেই দলে যেন ভাঙন আর থামছে না। বিধায়কদের একটা বড় গোষ্ঠী আলাদা হয়ে গিয়েছেন। যার মাথায় আছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। আবার সাংসদদের একটা বড় অংশ যোগ দিয়েছেন এনসিপিআই দলে। তারপরও যখন দলকে গোছানোর কাজ চলছে তখন একের পর এক নেতা দলের পদ থেকে পদত্যাগ করছেন। এবার ইটাহারের বিধায়ক মোশারফ হোসেন দলীয় পদে ইস্তফা দিলেন। নিজের বাসভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন। তবে বিধায়ক পদ থেকে তিনি ইস্তফা দেননি।

এদিকে দলের পদ ছেড়ে দিলেও বিধায়ক থেকে যাওয়ায় ঋতব্রত গোষ্ঠীতে যেতে চলেছেন তিনি বলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে রাজ্য-রাজনীতিতে। কারণ একাধিক সংখ্যালঘু বিধায়ক এবং নেতা ঋতব্রত গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছেন। আবার সেই গোষ্ঠীর শিক্ষক হয়ে উঠেছেন ফিরহাদ হাকিম। যাঁকে মন্ত্রী থেকে শুরু করে কলকাতা পুরসভার মেয়র করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে জিতে বিধায়ক হয়েছেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাঁদের হয়ে নির্বাচনী প্রচার করেছিলেন তাঁদের বেশিরভাগ অংশই এখন বিদ্রোহী।

অন্যদিকে রবিবার নিজের বাসভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে দলীয় পদ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান ইটাহারের বিধায়ক মোশারফ হোসেন। তবে দলীয় পদ ছাড়ার কারণ হিসাবে মোশারফ হোসেন মায়ের অসুস্থতার কথাই বলেছেন। কালীঘাটে তাঁর ইস্তফার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েও দিয়েছেন। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে ইটাহারের তৃণমূল বিধায়ক স্বীকার করেছেন, তাঁর সঙ্গে ঋতব্রত শিবিরের যোগাযোগ আছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও সুসম্পর্ক এবং তাঁর সহায়তায় রাজ্যের উন্নয়নকাজ করতে চান।


তাছাড়া রবিবার উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারের জয়হাটের চেকপোস্ট এলাকার বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সংখ্যালঘু সেলের রাজ্য সভাপতি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মোশারফ হোসেন বলেন, ‘রাজ্যের সরকার বদল হওয়ায় আগের মতো আর কাজ করতে পারছি না। মা অসুস্থ। কদিন আগেই মক্কা থেকে বাড়ি ফিরেছেন মা। এই অবস্থায় বিধানসভায় যেতে পারছি না। আর তাই সংখ্যালঘুর দায়িত্ব থাকতে চাই না। আর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একসময় আমাদের দলের হয়ে এই জেলার পর্যবেক্ষক ছিলেন। তখন থেকেই ওঁর সঙ্গে ভাল সম্পর্ক। এলাকার উন্নয়ন করা জরুরি। আবার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা হয়েছে।’