এবার গ্রেপ্তার হলেন তমলুক সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি। কলকাতা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তমলুকের তৃণমূল কংগ্রেস নেতাকে। সুজিত রায়কে গ্রেপ্তার করেছে পাঁশকুড়া থানার পুলিশ। এই সুজিত রায়কে রাস্তাতেই ডিম থেরাপি দেওয়া হয়। শনিবার ভোররাতে এই তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তমলুক সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি সুজিত রায়ের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। পাঁশকুড়া থানার সামনে তাঁকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয় ডিম। এই নেতাকে কলকাতা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে তমলুক সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি সুজিত রায় গ্রেপ্তার হতে পারেন বুঝতে পেরেই কলকাতায় গা-ঢাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু অবশেষে ধরা পড়েই গেলেন। ভোররাত ৩টে নাগাদ কলকাতার মুকুন্দপুর এলাকা থেকে সুজিত রায়কে গ্রেপ্তার করে পাঁশকুড়া থানার পুলিশ। এবারের বিধানসভা নির্বাচনের সময় সুজিত তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি ছিলেন। এমনকী পাঁশকুড়া পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতিও। শনিবার ধৃতকে পূর্ব মেদিনীপুর সিজেএম কোর্টে তোলা হবে বলে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে সুজিত রায়ের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, মিথ্যে মামলায় বিজেপি নেতা-কর্মীদের ফাঁসিয়ে দেওয়া এবং অনেককেই হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ক্ষমতায় থাকাকালীন স্থানীয় মানুষজনকে চমকে কাজ করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। রাজ্যে পালাবদলের পর একের পর এক নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন নানা অভিযোগে। সুজিত বসু থেকে শুরু করে উদয়ন গুহ গ্রেপ্তার হয়েছেন। তার সঙ্গে একাধিক স্থানীয় নেতা-কর্মীরাও গ্রেপ্তার হয়েছেন। তোলাবাজি থেকে শুরু করে ভোট পরবর্তী হিংসায় তাঁদের নাম জড়িয়েছে।
এছাড়া বন্দুকের নলের সামনে মহিলাকে ভয় দেখিয়ে কুরবান শা খুনের মামলায় অন্যতম সাক্ষী শেখ ইমরান আলি এবং কুরবানের দাদা আফজল শার বিরুদ্ধে গণধর্ষণের অভিযোগ করিয়েছিলেন এই সুজিত রায় বলে অভিযোগ। গণধর্ষণের অভিযোগ আনা সেই মহিলা কদিন আগেই সুজিত রায়ের বিরুদ্ধে এমনই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিজেপি নেতা-কর্মী থেকে কুরবান শা-র দাদা এবং প্রধান সাক্ষীকে দমিয়ে রাখতে একের পর এক মিথ্যা মামলায় জড়ানোর মূল কারিগর সুজিত রায়। এই অভিযোগকারীরা এখন মুখ খুলেছেন। থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে সত্যকে ফাঁস করছেন। আর তাতেই সুজিতের বিপদ বাড়ছিল। গত এক সপ্তাহ পাঁশকুড়ার মেচগ্রামের ফ্ল্যাট থেকে পালিয়ে গিয়ে কলকাতায় খাকছিলেন সুজিত। এবার তাঁকে মুকুন্দপুর থেকে পাকড়াও করা হয়েছে।