জেপি নাড্ডার গাড়িতে হামলার জের, পুরনো মামলায় গ্রেপ্তার অভিষেক ঘনিষ্ঠ ইমরান

Imran Hasan Arrested File Photo

তারিখটা ছিল ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর। সেদিন ডায়মন্ডহারবার যাওয়ার পথে হামলার মুখে পড়তে হয়েছিল তৎকালীন সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডাকে। তাঁর কনভয় লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল। ওই ঘটনার প্রায় ৬ বছর কেটে গিয়েছে। এখন পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। তাই ওই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তাতেই এবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা ইমরান হাসান। মাঝরাতে দেউলা সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে উস্তি থানার পুলিশ। ধৃত ইমরান হাসান মগরাহাট (পশ্চিম) বিধানসভার যুব তৃণমূল সভাপতি ছিলেন।

এদিকে জেপি নাড্ডা তখন রাজ্যে এসেছিলেন একুশের ভোট প্রচারে। তখন তাঁর উপর হামলা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ইমরানের বিরুদ্ধে শুধু জেপি নাড্ডার কনভয়ে হামলার অভিযোগ নেই, ভোটের আগে হুমকি, বিজেপি নেতা-কর্মীদের উপর অত্যাচার, ঘরবাড়ি ভাঙচুর-সহ একাধিক অভিযোগ আছে। এই হামলার পর জেপি নাড্ডা বলেছিলেন, ‘আমার উপর হামলা করা হয়েছে। আমি এই রাজ্যে বিরোধী দলের একজন শীর্ষ নেতা। আমাদের দল কেন্দ্রে সরকারে রয়েছে। সেখানে আমার উপর এমন হামলা হল। তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?’ তারপর কেটে গিয়েছে বিস্তর সময়। রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। তাই আগের মামলাগুলির তদন্ত শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ডায়মন্ডহারবার। সেখানে সভা করতে যান জেপি নাড্ডা। তখন তাঁর গাড়িতে দিলীপ ঘোষ-সহ কেন্দ্র এবং রাজ্যের একাধিক নেতা ছিলেন। তখন হঠাৎই তাঁদের কনভয়ে লক্ষ্য করে চলে ইটবৃষ্টি। একের পর এক নেতার গাড়ি লক্ষ্য করে ধেয়ে আসে লাঠি। এমনকী ইট মেরে দিলীপ ঘোষের গাড়ি ভেঙে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছিল। ইটের আঘাতে গুরুতর আহত হন কেন্দ্রের বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়। ডায়মন্ডহারবার যাওয়ার পথে প্রথমে সরিষা, পরে ফলতায় হামলার মুখে পড়তে হয় বিজেপি নেতাদের বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় আলোড়ন পড়ে গিয়েছিল রাজ্য-রাজনীতিতে। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে এবার পুলিশ গ্রেপ্তার করল ইমরান হাসানকে।


তাছাড়া রাজ্যে পালাবদলের পর গোটা ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। আর তদন্তে নেমেই মগরাহাট ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ তৌসিফ আহমেদ মোল্লা ওরফে বাচ্চু, আরিফ হোসেন এবং আনিসুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁদের জেরা করেই সঞ্জীব মণ্ডল এবং রিপনের নাম সামনে আসে। গ্রেপ্তার করা হয় ওই দু’জনকেও। এই ঘটনায় জাহাঙ্গির খানকেও গ্রেপ্তার করে উস্তি থানার পুলিশ। এবার পুলিশ গ্রেপ্তার করল ইমরান হাসানকে। এই হামলার পর তখন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ তো আমার দায়িত্ব নয়।’