দল গিয়েছে ভেঙে। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর খান খান হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ইতিমধ্যেই ২০ জন সাংসদ এনসিপিআই দলে যোগ দিয়েছেন। আর প্রায় ৬০ জন বিধায়ক নিজেদের আসল তৃণমূল দাবি করে বিধানসভায় আলাদা জায়গা দখল করেছে। প্রত্যেকদিন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-নেত্র্রীরা বিদ্রোহী ঘোষ্ঠীতে যোগ দিচ্ছেন। খোদ জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক পর্যন্ত বিধানসভায় গিয়ে দেখে করে এসেছেন। এই আবহে প্রশ্ন উঠছে, অনুব্রত মণ্ডল কোন পক্ষে রয়েছেন? কারণ কাজল শেখ ইতিমধ্যেই ঋতব্রত গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছেন। তারপরই নিরাপত্তা ফিরে পেয়েছেন। এই বিষয়ে এবার মুখ খুললেন বীরভূমের কেষ্ট।
এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছের নেতা কেষ্ট। সে আগেই আইপ্যাক নিয়ে মুখ খুলে ছিলেন। আর বুধবার যা বললেন তাতে ধোঁয়াশা রয়ে গেল। কালীঘাট তৃণমূল নাকি ঋতব্রত তৃণমূল কোন পক্ষে আছেন তা নিয়ে সোজাসুজি কিছু বললেন না। এই ধরি মাছ না ছুঁই পানি করে দরজা খোলা রাখলেন কেষ্ট বলে অনেকে মনে করছেন। যদিও অনুব্রত মণ্ডল বলেন, ‘আমি নতুন-পুরনো, পক্ষ-বিপক্ষ বুঝি না। আমি এখনও তৃণমূলেই আছি।’ কিন্তু তৃণমূল তো এখন দুটি। এক, কালীঘাট তৃণমূল. দুই, ঋতব্রত তৃণমূল। এই দুটির মধ্যে কোনটিতে আছেন সেটি স্পষ্ট করেননি বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা।
অন্যদিকে এখন যা পরিস্থিতি তাতে কালীঘাট তৃণমূলের কাছ থেকে প্রতীক, তহবিল ছিনিয়ে নিতে চাইছে ঋতব্রত তৃণমূল। তার জন্য রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে গিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে কদিনের মধ্যে যেতে চলেছেন ঋতব্রত বলে সূত্রের খবর। এই অবস্থার কথা শুনে অনুব্রত মণ্ডলের প্রতিক্রিয়া, ‘সিপিএমকে খেদিয়ে তৃণমূলকে এনেছি। জন্মলগ্ন থেকেই সংগঠনে আছি। আমি এখনও পর্যন্ত তৃণমূল।’ ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের নতুন জাতীয় কর্মসমিতিতে জায়গা পেয়েছেন বীরভূম জেলার দুই বিধায়ক এবং দুই প্রাক্তন বিধায়ক। বোলপুরের বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহা এবং হাসনের বিধায়ক কাজল শেখ। লাভপুর ও রামপুরহাট থেকে তৃণমূলের পরাজিত প্রার্থী অভিজিৎ সিনহা এবং আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ঠাঁই পেয়েছেন ওই কমিটিতে।
তাছাড়া জেলার আরও তিন নির্বাচিত বিধায়ক, সিউড়ির প্রাক্তন বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী, একাধিক পুরসভার পুরপ্রধান এবং কাউন্সিলররাও সোমবার নিউটাউনের পাঁচতারা হোটেলে তাঁদের বিশেষ অধিবেশনে হাজির হয়েছিলেন। কিন্তু কেষ্টকে কোথাও দেখা যায়নি। এই সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে অনুব্রত মণ্ডলের কথায়, ‘আমাদের দলের সমর্থকদের একটা বড় অংশ কৃষিজীবী ও শ্রমিক সম্প্রদায়ের মানুষ। তাঁদের কাছে দলের প্রতীকটাই গুরুত্বপূর্ণ। কে কোন পদে থাকল সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।’