‘হয় অভিষেক নয় জোড়াফুল’, একটাকে বাছতে বার্তা দিলেন ‘আসল তৃণমূলে’র মুখ্য সচেতক

দল ভেঙে খান খান তৃণমূল কংগ্রেস। বিধানসভায় আসল তৃণমূল তকমা নিয়ে বড় অংশের বিধায়করা প্রধান বিরোধী দল বলে নিজেদের ঘোষণা করেছে। আগে তাঁরাই ঘোষণা করেছিল এই পৃথক গোষ্ঠীর পরামর্শদাতা হোক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তিনি কোনও সাড়া দেননি। এবার তাঁদের পক্ষ থেকে এল আল্টিমেটাম। রবিবার সাফ জানিয়ে দেওয়া হল, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছাড়লে তবেই দলনেত্রীর সঙ্গে থাকবেন বিদ্রোহীরা। না হলে জোড়াফুল প্রতীক নিজেদের দখলে নিয়ে তাঁরাই গড়বেন নতুন তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি এমনই ডেডলাইন বেঁধে দিলেন ‘আসল তৃণমূল’-এর মুখ্য সচেতক তথা রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামান।

এদিকে অনেক দিন হয়ে গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে কোনও সাড়া না পেয়ে শর্ত দিলেন তাঁরা। এই বিরোধী দলের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। যাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আর এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি শর্ত বেঁধে দিয়ে মুখ্য সচেতক, প্রাক্তন মন্ত্রী তথা রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামান বললেন, ‘অভিষেকের হাত ছাড়লে আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে আছি। কিন্তু অভিষেক থাকলে আমরা নেই।’

অন্যদিকে বিধানসভা নির্বাচনে হেরে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। আর তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা ৮০। সেখান থেকে ৫৮ জনকে নিয়ে আসল তৃণমূল গঠন করা হয়েছে। উঠে এসেছে সই জালিয়াতি কাণ্ড। বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলে ভাঙন শুরু হয়েছিল। বিধানসভা থেকে বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহার নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই গঠিত হয়েছে ‘আসল তৃণমূল’। এখন দলনেত্রীর নির্দেশ অমান্য করে পৃথক ‘ফ্রন্ট’ গঠন করা হয়েছে। আবার বলা হচ্ছে, বিধায়ক সংখ্যা নাকি বেড়ে হয়েছে ৬৪।


তাছাড়া এই বিধায়কের সংখ্যা আগামী দিনে আরও বাড়বে বলে দাবি করা হয়েছে। এই আবহে এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যাবিনেটের প্রাক্তন আখরুজ্জামান সাফ জানালেন, অভিষেকেই তাঁদের মূল আপত্তি! তাঁকে সরিয়ে দিলে তবেই তাঁরা মমতার সঙ্গে থাকবেন। না হলে নয়। আর দলনেত্রীর সিদ্ধান্ত তাঁদের শর্তের বিরুদ্ধে গেলে তাঁরা জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে নতুন তৃণমূল গড়তে বাধ্য হবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সুতরাং এখন কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই ঘটনা তখনই ঘটল যখন নয়াদিল্লিতে সাংসদদের পৃথক ব্লক তৈরি হয়ে স্পিকারের কাছে যেতে চলেছে। রবিবার তাঁরা তৃণমূলনেত্রীকে শর্ত বেঁধে দিলেন অভিষেক অথবা জোড়াফুল যে কোনও একটা বেছে নিতে হবে। এখন দেখার জল শেষ পর্যন্ত কতদূর গড়ায়।