• facebook
  • twitter
Tuesday, 27 January, 2026

মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল

হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশের অভিযোগ

নিজস্ব চিত্র

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে একাধিক গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলল তৃণমূল। এইসব অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বিকেলে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে গেল রাজ্যের শাসকদলের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি। বিকেল প্রায় পাঁচটা নাগাদ বিবাদী বাগে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কার্যালয়ে পৌঁছে তারা নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কড়া প্রশ্ন তোলে এবং লিখিতভাবে অভিযোগ জমা দেয়।

এদিন এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন, লোকসভার সাংসদ মহুয়া মৈত্র, বিধায়ক পার্থ ভৌমিক, বাপি হালদার এবং মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা।

Advertisement

তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, রাজ্যে চলা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় আইন ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা করে সাধারণ ভোটারদের হয়রানি করা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে যাঁরা আইনত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন, সেই নির্বাচনী আধিকারিকদের ক্ষমতা কার্যত খর্ব করা হয়েছে। পরিবর্তে ‘মাইক্রো অবজারভার’ নামে কিছু পর্যবেক্ষকের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা তুলে দেওয়া হয়েছে, যা আইনি কাঠামোর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

Advertisement

তৃণমূলের বক্তব্য, জনপ্রতিনিধিদের কাছে আসা অভিযোগ অনুযায়ী, নির্বাচনী নথিভুক্তিকরণ আধিকারিকদের সিদ্ধান্তের পরেও ওই পর্যবেক্ষকরা তা আটকে দিচ্ছেন অথবা বদলে দিচ্ছেন। এর ফলে গোটা প্রক্রিয়াই প্রশ্নের মুখে পড়ছে এবং প্রশাসনিক কাঠামোর স্বচ্ছতা নষ্ট হচ্ছে।

প্রতিনিধি দল আরও অভিযোগ করে, ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ বা যুক্তিগত অসঙ্গতির নামে বহু পুরনো ভোটারকে নোটিস পাঠিয়ে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। অথচ এই ভোটারদের নাম দুই হাজার দুই সালের ভোটার তালিকাতেও ছিল। নামের সামান্য বানানভুল বা মিল না থাকার জন্য এই ধরনের পদক্ষেপকে ‘অযৌক্তিক ও ভয় ধরানোর কৌশল’ বলে দাবি করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। তাদের মতে, এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে এবং ভোটাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।

এ ছাড়াও, বার্তা আদানপ্রদানের মাধ্যমে অথবা মৌখিক নির্দেশের ভিত্তিতে ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত নির্দেশিকা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়। তৃণমূলের দাবি, এতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি, ‘যুক্তিগত অসঙ্গতি’ বিভাগের সংজ্ঞা বদলে ‘একাধিক’ শব্দ ব্যবহার করায় অপব্যবহারের আশঙ্কাও তুলে ধরা হয়।

প্রতিনিধি দলের আরও অভিযোগ, সরকারি জমি বা বাড়ি বরাদ্দের শংসাপত্র যাচাইয়ের মতো অনেক ক্ষেত্রে তা গ্রহণ করা হচ্ছে না। এটি নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব নির্দেশিকার পরিপন্থী বলে শাসকদলের পক্ষে দাবি করা হয়েছে। এর ফলে গরিব, প্রান্তিক ও সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার বিপন্ন হচ্ছে বলে দাবি তৃণমূল কংগ্রেসের।

মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে গিয়ে প্রতিনিধি দল লিখিতভাবে এই সমস্ত অভিযোগ জানিয়ে অবিলম্বে সংশোধনমূলক পদক্ষেপের দাবি জানায়। তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় আইন, স্বচ্ছতা এবং মানুষের আস্থা— এই তিনটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যথায় এই প্রক্রিয়ায় মানুষের মধ্যে ভয়, অবিশ্বাস ও অনাস্থা আরও বাড়াবে বলে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

Advertisement