ফের কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ তুলে সরব হল তৃণমূল কংগ্রেস। সূত্রের খবর, রাজ্যসভার তৃণমূল দলনেতা ডেরেক ও’ ব্রায়ান স্বরাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান রাধামোহন দাস আগরওয়ালের কাছে চার পাতার একটি বিস্তারিত চিঠি জমা দেন। সেখানে প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা খাতে পশ্চিমবঙ্গের পাওনা বিপুল অর্থের খতিয়ান তুলে ধরা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সময়ে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ক্ষতিপূরণ বাবদ কেন্দ্রের কাছে পশ্চিমবঙ্গের মোট প্রায় ৫৩,৬৯৬ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, এই বিপুল অর্থ দীর্ঘদিন ধরে না মেটানোর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পুনর্গঠন, ত্রাণ এবং পরিকাঠামো পুনর্বাসনের কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
Advertisement
এদিনের বৈঠকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়ন মন্ত্রক বা ডোনার-এর বরাদ্দ অর্থের একটি বড় অংশ ব্যবহার না হওয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন কমিটির সদস্যরা। সূত্রের খবর, দলমত নির্বিশেষে একাধিক সদস্য মণিপুরে বরাদ্দ তহবিলের ব্যবহার নিয়ে আলাদা রিপোর্ট বা নোট জমা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
Advertisement
ডেরেকের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে ডোনার মন্ত্রকের বরাদ্দ বাজেটের প্রায় ৪১ শতাংশ অর্থ অব্যবহৃত থেকে গিয়েছে। একইভাবে ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষেও প্রায় ৩৬ শতাংশ তহবিল খরচ হয়নি। এই পরিস্থিতি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে অভিযোগ। চিঠিতে কেন্দ্রীয় বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে তৃণমূল। বিশেষ করে ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর: মুফত বিজলি যোজনা’ প্রকল্পের ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগ, নির্ধারিত উপভোক্তাদের প্রায় ৭৫ শতাংশ এখনও প্রকল্পের সুবিধা পাননি।
এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল, ৩ লক্ষের বেশি পরিবারে বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু বাস্তবে সেই সংখ্যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক কম বলে চিঠিতে দাবি করা হয়েছে। সূত্রের খবর, বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিবের উপস্থিতিতেই কমিটির চেয়ারম্যান বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি আধিকারিকদের তিন দিনের মধ্যে সাংসদদের সমস্ত প্রশ্নের বিস্তারিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেন।
একই সঙ্গে ডেরেক ও’ ব্রায়ানের জমা দেওয়া চিঠিটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আগামী দিনে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
Advertisement



