প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শনিবারের ব্রিগেড সভাকে ঘিরে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিচ্ছে কলকাতা পুলিশ। শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ঘিরে তৈরি করা হচ্ছে বহুস্তর নিরাপত্তা বলয়। গোটা নিরাপত্তা ব্যবস্থার তদারকিতে থাকবেন এডিজি (কোস্টাল) হরিকিশোর কুসুমাকার। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শনিবার আসাম থেকে বিমানে করে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছবেন। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে তিনি যাবেন কলকাতা রেসকোর্স মাঠে। এরপর সেখান থেকে গাড়িতে করে সরাসরি পৌঁছবেন ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের সভাস্থলে।
এই সফর ঘিরে শনিবার শহরে প্রায় তিন হাজার পুলিশকর্মী মোতায়েন থাকবে বলে জানা গিয়েছে। ব্রিগেড ও সংলগ্ন এলাকা একাধিক সেক্টরে ভাগ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হচ্ছে। প্রতিটি সেক্টরের দায়িত্বে থাকবেন ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) পদমর্যাদার এক জন করে আধিকারিক। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কয়েকটি সেক্টর মিলিয়ে একটি জোন তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি জোনের দায়িত্বে থাকবেন যুগ্ম কমিশনার (জেসি) পদমর্যাদার আধিকারিকরা। নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্রিগেড ময়দান ও আশপাশের এলাকায় বিশেষ বাহিনী মোতায়েন থাকবে। গোটা কর্মসূচি চলাকালীন পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ব্রিগেড গ্রাউন্ডে এই সভা ঘিরে কলকাতা জুড়ে বিশেষ যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা করেছে কলকাতা পুলিশ। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান চলাচল সীমিত করা হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভারী যানবাহন প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা থাকবে।
জেলায় জেলায় অনুষ্ঠিত বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার সমাপ্তি পর্ব শনিবার অনুষ্ঠিত হবে ব্রিগেড গ্রাউন্ডে। সেই সভায় উপস্থিত থাকবন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিশাল জনসমাগমের সম্ভাবনা, তাই আগাম ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরদার করছে কলকতা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শনিবার ভোর ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কলকাতা শহরে সাধারণ ভারী যানবাহনের প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। তবে কিছু জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। এলপিজি সিলিন্ডার, তেল, সিএনজি, পেট্রোলিয়ামজাত দ্রব্য, অক্সিজেন, লুব্রিক্যান্ট, সবজি, ফল, মাছ, দুধ এবং ওষুধ বহনকারী ভারী যান এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।
এ ছাড়া শহরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রিতভাবে চালানো হবে। এর মধ্যে রয়েছে এসপ্ল্যানেড র্যাম্প, কেপি রোড, হসপিটাল রোড, লাভার্স লেন, ক্যাসুরিনা অ্যাভিনিউ এবং কুইনসওয়ে। পরিস্থিতি অনুযায়ী ওই রাস্তাগুলিতে যানবাহন অন্য পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, শনিবার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলের আশপাশের এলাকা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় গাড়ি পার্কিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। হেস্টিংস ক্রসিং থেকে ক্যাথিড্রাল রোড, খিদিরপুর রোড, হসপিটাল রোড, কুইনসওয়ে, ক্যাসুরিনা অ্যাভিনিউ ও লাভার্স লেনের মতো রাস্তায় পার্কিং করা যাবে না।
এ ছাড়াও ভিভিআইপি যাতায়াত ও মিছিলের রুটে প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করা হতে পারে। সভাস্থলের আকাশপথে নজরদারি জোরদার করতে ওই এলাকায় ‘নো ফ্লাই জোন’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে ওই এলাকায় কোনও ধরনের ড্রোন বা উড়ন্ত যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। নিরাপত্তা রক্ষায় ময়দানের আশপাশের বহুতল ভবনগুলিতেও বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। সেখান থেকে দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখবেন নিরাপত্তাকর্মীরা। শুক্রবার সন্ধ্যায় সভাস্থলের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে ব্রিগেডে যান ভারতীয় জনতা পার্টির একাধিক শীর্ষ নেতা।