ভবানীপুরে গণনার আগে কড়া নিরাপত্তা, ত্রিস্তরীয় বলয়ে স্ট্রং রুম

রাজ্যে দু’দফায় সম্পন্ন হয়েছে বিধানসভা নির্বাচন। আগামী ৪ মে, সোমবার ভোটগণনা ও ফলপ্রকাশ। নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ভবানীপুর বিধানসভার স্ট্রং রুম রাখা হয়েছে শাখাওয়াত মেমোরিয়াল গভর্নমেন্ট গার্লস হাইস্কুলে। গণনার আগে সেখানে জারি হয়েছে ত্রিস্তরীয় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

কেন্দ্রীয় বাহিনী, রাজ্য পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশের যৌথ নজরদারিতে রয়েছে গোটা এলাকা। লর্ড সিনহা রোড জুড়ে ব্যারিকেড তৈরি করে ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। এই স্থানেই গড়ে তোলা হয়েছে গণনাকেন্দ্র। ইতিমধ্যেই গণনার প্রস্তুতি শুরু করেছেন কর্মীরা। নিরাপত্তা জোন তৈরি থেকে শুরু করে বিভিন্ন পরিকাঠামোগত ব্যবস্থা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। সোমবার সকাল ৮টা থেকে এখানেই শুরু হবে ভবানীপুর বিধানসভার ভোটগণনা।

এদিকে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামেও জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা। স্ট্রং রুম পরিদর্শনে সেখানে উপস্থিত হন সিআরপিএফের ডিজি জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং। গোটা রাজ্যে গণনাকেন্দ্রগুলিকে আঁটোসাঁটো নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন। গণনার দিন মোতায়েন থাকবে প্রায় ২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। প্রতিটি গণনাকেন্দ্রে গড়ে দু’কোম্পানি করে বাহিনী রাখা হবে।


নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, গণনাকেন্দ্র সংলগ্ন ২০০ মিটারের মধ্যে কোনও জমায়েত বা বিক্ষোভ বরদাস্ত করা হবে না। গণনাকেন্দ্রের ভিতরেও থাকবে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়। প্রথম স্তরে থাকবেন কলকাতা পুলিশের লাঠিধারী বাহিনী ও সার্জেন্টরা, দ্বিতীয় স্তরে কলকাতা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং তৃতীয় স্তরে থাকবেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা।গণনাকেন্দ্রে প্রবেশের ক্ষেত্রেও জারি করা হয়েছে কড়াকড়ি। শুধুমাত্র গণনাকর্মী, সরকারি কর্মী, প্রার্থী ও অনুমোদিত কাউন্টিং এজেন্টদেরই প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।

পরিচয় যাচাইয়ের জন্য চালু হয়েছে কিউআর কোড স্ক্যানিং ব্যবস্থা। সবুজ সংকেত মিললেই তবেই মিলবে প্রবেশাধিকার। নিরাপত্তার স্বার্থে গণনাকেন্দ্রের ভিতরে মোবাইল ফোন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সঙ্গে রাখা যাবে কেবল একটি সাদা কাগজ ও একটি কলম।সংশ্লিষ্ট প্রার্থী বা তাঁর অনুমোদিত প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে স্ট্রং রুমের সিল খোলা হবে। উপস্থিত থাকবেন রিটার্নিং অফিসার, কাউন্টিং অবজারভার, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা।

পাশাপাশি নির্ধারিত গণনাকেন্দ্রগুলির চারপাশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর নজর রাখবেন পুলিশ পর্যবেক্ষকরা।গণনা শেষে ফল প্রকাশের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম বেঁধে দিয়েছে কমিশন। প্রতিটি রাউন্ডের ফল প্রথমে ট্যাবুলেশন টেবিলে পাঠানো হবে এবং যাচাইয়ের পর রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন সাপেক্ষে তা প্রকাশ করা হবে। একইসঙ্গে ফলাফল আপলোড করা হবে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে। গণনাকেন্দ্র ও সংলগ্ন এলাকাজুড়ে থাকবে কড়া সিসিটিভি নজরদারি।