দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে আবার বাঘ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিল কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ মন্ত্রক। বহুদিন ধরে স্থগিত থাকা ‘টাইগার রিইন্ট্রোডাকশন’ প্রকল্প এবার বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। দেশের বাঘ সংরক্ষণের সর্বোচ্চ সংস্থা এনটিসিএ-র নির্দেশিকা মেনে এই প্রকল্প চালু করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাইরের বনাঞ্চল থেকে প্রাথমিকভাবে দুটি বাঘিনী ও একটি বাঘ বক্সায় আনা হবে। প্রথমে তাদের একটি বিশেষ এনক্লোজারে রাখা হবে এবং গলায় রেডিও কলার পরানো হবে। কয়েকদিন পর্যবেক্ষণের পর তাদের মুক্ত বনাঞ্চলে ছেড়ে দেওয়া হবে। রেডিও কলারের মাধ্যমে বাঘগুলির চলাফেরা ও আচরণের ওপর নজর রাখবে বনদপ্তর।
১৯৮২ সালে বক্সা দেশের ১৫তম বাঘ সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল। একসময় এই অঞ্চলে ২০টিরও বেশি বাঘের অস্তিত্ব ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বক্সা কার্যত বাঘশূন্য হয়ে পড়ে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে ভুটান সীমান্ত থেকে কয়েকটি বাঘের আনাগোনার ছবি ট্র্যাপ ক্যামেরায় ধরা পড়েছে।
এই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় এনক্লোজার তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। বাঘের খাদ্যের জন্য সেখানে হরিণও ছাড়া হয়েছে। বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, আসাম বা বিহারের উপযুক্ত বনাঞ্চল থেকে বাঘ আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে এই প্রকল্পকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে কিছু প্রশ্নও উঠছে। বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী মানুষ ও পর্যটন শিল্পের উপর এর প্রভাব কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পর্যটন মহলের একাংশের মতে, ‘টাইগার ট্যুরিজম’ এলাকায় নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলতে পারে, তবে অতিরিক্ত বিধিনিষেধ স্থানীয় মানুষ ও পর্যটনের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।