তীব্র গতিতে ছুটছিল মোটরবাইক। তাতে তিনজন বন্ধু ছিলেন। আনন্দের সঙ্গে তা রুদ্ধশ্বাস গতিতে ছুটছিল। কিন্তু তাঁরা আর গন্তব্যে পৌঁছতে পারলেন না। এই গতির বলি হলেন তাঁরা। অকালে ঝড়ে গেল তিন যুবকের প্রাণ। যা নিয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে। মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনার জেরে রাস্তায় পড়েছিলেন তিন যুবক। তার মধ্যে দুই যুবক রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় আর্তনাদ করছেন! রাতের অন্ধকারে এই মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনাটি ঘটে বাঁকুড়ার জয়পুরে। দুটি মোটরবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছে পুলিশ। এই পথ দুর্ঘটনায় তিনজন যুবক মারা গিয়েছেন। জখমরা এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় সূত্রে খবর, শনিবার বেশি রাতে ওই পথ দুর্ঘটনা ঘটেছে জয়পুর থানার সলদা গ্রামে। দুটি মোটরবাইক তীব্র গতিতে যাচ্ছিল। রেষারেষি প্রতিযোগিতা নাকি আনন্দের বহিঃপ্রকাশ তা অবশ্য জানা যায়নি। তবে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় তাঁদের মধ্যে। সেটাও কেমন করে সম্ভব হলো তা জানা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। একটি মোটরবাইকে তিনজন এবং আর একটিতে দু’জন ছিল। কিন্তু সংঘর্ষ এতটাই জোরালো ছিল যে পাঁচজনই রাস্তায় ছিটকে পড়ে যান। আর মোটরবাইক দুটিও তুবড়ে রাস্তাতেই ছিটকে পড়ে। তার জেরে বিকট শব্দ শোনা যায়। যা শুনে ছুটে যায় স্থানীয় বাসিন্দারা।
পুলিশ সূত্রে খবর, স্থানীয় বাসিন্দারাই ফোন করে এই পথ দুর্ঘটনার খবর দেন। তখনই ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয় পুলিশ। আর রক্তাক্ত অবস্থায় থাকা পাঁচজনকে উদ্ধার করা হয়। এই মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা দেখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। তড়িঘড়ি ওই আহত পাঁচজনকে উদ্ধার করে বিষ্ণুপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসকরা তিনজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত তিনজনের পরিচয় রাতেই খোঁজ নিয়ে জানা যায়। মৃতরা হলেন, জয়পুরের বৈতল গ্রামের পল্লব সাঁতরা, সুপুর মেটে পাড়ার বাসিন্দা অনন্ত সাঁতরা এবং উজ্জ্বল বায়েন। দুর্ঘটনাগ্রস্তদের প্রত্যেকেরই বয়স ১৯ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। তাঁদের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। বাকি দু’জন আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
তাছাড়া রবিবার সকাল পর্যন্ত বাকি দু’জনের পরিচয় জানা যায়নি। এই ঘটনার কথা শুনে রাতেই হাসপাতাল এবং দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে সব খতিয়ে দেখেছে জয়পুর থানার পুলিশ। দুর্ঘটনাগ্রস্ত মোটরবাইক দুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তীব্র গতিতে মোটরবাইক চালানোই কি কাল হলো? মুখোমুখি সংঘর্ষ কেন এড়ানো সম্ভব হয়নি? এই পথ দুর্ঘটনার পিছনে অন্য কোনও কারণ আছে কি? সেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।