তিন নাবালককে পশ্চিম বর্ধমান জেলার সালানপুরের রূপনারায়ণপুর থেকে উদ্ধার করলেন সমাজসেবী পল্লবী হালদার এবং রেল স্কুলের শিক্ষক ও সমাজসেবী বিশ্বনাথ মিত্র। এই তিনজনের মধ্যে দু’জন মেয়ে এবং একজন ছেলে। দুই নাবালিকা বয়স যথাক্রমে ছয় বছর ও চার বছর। ছেলেটির বয়স সাড়ে তিন বছর। এই তিনজনের খবর গত বুধবার বিকেলে পল্লবীদেবী ও বিশ্বনাথবাবু চাইল্ড লাইনকে খবর দেন। সেই মতো শুক্রবার রূপনারায়ণপুরের একটি বৃদ্ধাশ্রম থেকে তিনজনকে আসানসোলে নিয়ে আসা হয়। চাইল্ড লাইনের একটি টিম আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের সালানপুর থানার পুলিশের সহযোগিতায় উদ্ধার করে।
আসানসোল জেলা হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তাদের তুলে দেওয়া হয় পশ্চিম বর্ধমান জেলার চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি বা সিডবলুসির হাতে। সিডাবলুসি’র এক আদেশনামায় নাবালিকাদের পূর্ব বর্ধমানের ‘চাইল্ড লাইন হোম ফর গার্লস’-এ পাঠানো হয়েছে। ছেলেটিকে দুর্গাপুরের ইন্দিরা প্রগতি সোসাইটি হোমে নিয়ে যাওয়া হয়।এই প্রসঙ্গে পশ্চিম বর্ধমান জেলার সিডাবলুসি’র চেয়ারপার্সেন পরমেশ্বর খান বলেন, এই তিন নাবালক ও নাবালিকা সম্পর্কে আপন ভাই বোন। আইনের বাধ্যবাধকতায় এদের ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় রাখতে বাধ্য হয়েছি। কিন্তু দু’টি হোমই খুবই ভালো পরিবেশ সম্পন্ন।
সেখানে এদের কোনও অসুবিধা হবে না। শিক্ষক বিশ্বনাথ মিত্র বলেন, আমরা রূপনারায়নপুরের ওই বৃদ্ধাশ্রমের এক কর্মকর্তা গোপাল রায়ের কাছ থেকে জানতে পারি এই নাবালকদের মা-বাবা থেকেও নেই। এরপরই আমরা যোগাযোগ করি চাইল্ড লাইনের সঙ্গে। চাইল্ড লাইনের কো-অর্ডিনেটর রূপকথা চাকী রক্ষিত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। পরে গোটা বিষয়টি জানতে পারেন আসানসোল দুর্গাপুরের পুলিশ কমিশনার ডাঃ প্রণব কুমার। তিনি সরাসরি নিজে ফোন করেন সালানপুর থানাকে।
নির্দেশ দেন অবিলম্বে ওই তিন নাবালককে বৃদ্ধাশ্রম থেকে উদ্ধার করে আসানসোলে নিয়ে আসার জন্য। এছাড়া পরমেশ্বর খানের সহয়তায় তিনজনের উদ্ধারের কাজ আরও ত্বরান্বিত হয়।উল্লেখ্য, তিন নাবালক ও নাবালিকাকে উদ্ধারের পর পল্লবী হালদার গত তিন দিন নিজের কাছে রাখেন। তাদের থাকা খাওয়ার সব ব্যবস্থা করেন। এমন কি তিনি শুক্রবার তিনজনের সঙ্গে আসানসোলে আসেন। সিডবলুসি’র অর্ডার হাতে নেওয়া পর্যন্ত সর্বক্ষণ তাদের সঙ্গে ছিলেন।
এই প্রসঙ্গে বিশ্বনাথবাবু আবেগতাড়িত হয়ে বলেন, অন্য সবাই তো ছিলেন। বিশেষ করে পল্লবীদেবীর প্রতি কৃতজ্ঞতার ভাষা মুখে বলার নয়।দিনের শেষে পল্লবী হালদার বলেন, এই শিশুদের ভালো জায়গায় স্থান পাওয়াটা, আমার জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য দিন। এই দিনটার কথা কোনেদিনই ভুলব না। তবে, যারা এই কাজটি করতে আমায় সাহায্য করেছেন, তাদের প্রতিও আমি কৃতজ্ঞ।