বর্ষার মধ্যেই কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন তিনজন দিনমজুর। কিন্তু সেই পথেই একটি লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁদেরকে সজোরে ধাক্কা মারে। আর তার জেরেই একসঙ্গে তিনজন দিনমজুরের মৃত্যু হয়। এই ঘটনা নিয়ে রায়গঞ্জের ইটাহারে ব্যাপক আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। কেন এমন ঘটনা ঘটল? এই প্রশ্ন তুলে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ দেখিয়েছেন। তবে গোটা ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। একের পর এক পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ যাচ্ছে সাধারণ মানুষের। শহর থেকে জেলা কোথাও বাকি নেই পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু। এই তিনজন দিনমজুরের পরিবারে এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে খবর, সাতসকালেই ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। কাজে যাওয়ার পথে একটি লরি সজোরে ধাক্কা মারলে আহত হন ১১ জন শ্রমিক। যার মধ্যে মৃত্যু হয়েছে তিনজন শ্রমিকের। উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার বালিয়াপাড়া সংলগ্ন জাতীয় সড়কে এই পথ দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এখন ক্ষোভের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। এখানের রাস্তাঘাটও খারাপ বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। কিছুতেই তা মেরামত করা হচ্ছে না। তার জেরেই এই পথ দুর্ঘটনা ঘটছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত শ্রমিকদের নাম- তপো মার্ডি(৩৭), অলোকা বর্মণ(৪৬), ছেপো বর্মণ(৪৫)। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। তবে এই পথ দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘাতক লরিটিকে আটক করা হয়েছে। চালককে ধরা হয়েছে। তার তল্লাশি শুরু হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, লরিটি নিয়্ন্ত্রণ হারিয়েই ধাক্কা মেরেছে শ্রমিকদের। তার জেরেই অনেকে হতাহত এবং তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সব শ্রমিকদের পরিচয় জানার কাজ হয়েছে। তাঁদের পরিবারে খবর দেওয়া হয়েছে।
তাছাড়া আরও জানা গিয়েছে, রায়গঞ্জের দুর্গাপুর কমলাই এলাকা থেকে শুক্রবার সকালে একটি লরিতে কয়েকজন দিনমজুর কাজ করতে যাচ্ছিলেন। তারপর বালিয়াপাড়া জাতীয় সড়কে সেই লরি থেকে শ্রমিকরা যখন নামছিলেন তখন ওখানে পিছন থেকে আসা মালদামুখী আর একটি লরি এসে সজোরে ধাক্কা মারে তাঁদের। তার জেরে ছিটকে গিয়ে পড়ে যান শ্রমিকরা। গুরুতর আহত হওয়ায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় একজনের। পাশাপাশি অন্যান্য আহতদের তড়িঘড়ি দ্রুততার সঙ্গে হাসাপাতলে নিয়ে যান স্থানীয় বাসিন্দারা। যার মধ্যে কয়েকজনকে ইটাহার হাসপাতালে এবং বাকিদের রায়গঞ্জ মেডিক্যালে স্থানান্তর করা হয়। তারপর আহতদের হাসাপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর কর্মরত চিকিৎসক আরও দুজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।