বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই মিত্র ইনস্টিটিউটে ভোট দিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পূর্বনির্ধারিত সূচি মেনে সকাল আটটা নাগাদ তিনি ভোটকেন্দ্রে পৌঁছন এবং ভোট দেন। এরপরই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে একযোগে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ পর্যবেক্ষকরা তাঁদের এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে কাজ করছে এবং সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, এই ধরনের পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী। মঙ্গলবার রাতে ভবানীপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর অসীম বসুর বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে এবং তা সম্পূর্ণ বেআইনি।
একইসঙ্গে আত্মবিশ্বাসী সুরে অভিষেক বলেন, ‘ভয় দেখিয়ে কোনও লাভ হবে না। প্রথম দফায় বিজেপি কুপোকাত হয়েছে, দ্বিতীয় দফায় দফারফা হবে।‘ তাঁর কথায়, বাড়ি বাড়ি গিয়ে এইভাবে তল্লাশি চালানো বা চাপ সৃষ্টি করা ভোটের পরিবেশকে প্রভাবিত করারই চেষ্টা, তবে শেষ পর্যন্ত মানুষই তার জবাব দেবে।
উল্লেখ্য, এদিন সকাল সাতটা থেকে রাজ্যের ১৪২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ভোট শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাধারণত ভোটের দিনে তিনি বাড়িতেই থাকেন এবং ভোট শেষে প্রতিক্রিয়া দেন। কিন্তু এদিন ব্যতিক্রমীভাবে সকাল থেকেই তিনি ভবানীপুরের বিভিন্ন বুথে ঘুরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে একই অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, ভোটের আগের রাতে বাহিনী তাণ্ডব চালিয়েছে এবং সেই কারণেই তিনি ও অভিষেক সারারাত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখেন। এই ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট, দ্বিতীয় দফার ভোটকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে উঠেছে।