শেষ করছে মানুষের অধিকার হিটলারকেও ছাড়িয়ে যাবে

শুক্রবার বিমানে অন্ডাল পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রওনা দেওয়ার আগে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। কমিশনকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘এরা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশও ঠিকমতো মানছে না। কমিশন মানুষের অধিকার ভ্যানিশ করে দিচ্ছে। যা চলছে তাতে মনে হচ্ছে সুপার হিটলারকেও ছাড়িয়ে যাবে। তবে বিজেপি কমিশনকে দিয়ে যতই নাম ভ্যানিশ করুক না কেন, ওরা কিছুই করতে পারবে না। একটা কথা মনে রাখবেন, ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। রামনবমীর দিনে এ কথাই বলে গেলাম, মিলিয়ে নেবেন।’ কেন্দ্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, বাংলার হলদিয়ায় উৎপাদিত গ্যাস কোনোভাবেই বাইরে পাঠানো যাবে না।

অন্ডাল যাওয়ার আগে কেন্দ্র ও কমিশনকে একযোগে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। অতিরিক্ত ভোটার তালিকা নিয়েও কেন্দ্রীয় সরকারকে একহাত নিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট অতিরিক্ত ভোটার তালিকা বার করতে বলেছিল। কিন্তু প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। এটা গণতন্ত্রের হত্যা। এর থেকে বেশি কিছু হতে পারে না। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এঁদের দেখে ঘৃণা হয়।

নির্বাচন কমিশনকে ধিক্কার। এদের সম্পর্কে কিছু বলতে আমার লজ্জা লাগে।’ তিনি আরও বলেন, ‘শুনেছি ৫০ শতাংশ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। কারও অঙ্গুলিহেলনে দেখে দেখে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। সুতির একটা বুথে ৫০০ ভোটার। যার মধ্যে ৪০০ নাম বাদ। অবাক হয়ে যাচ্ছি। বসিরহাটে একটা বুথে ৬০০ ভোটারের মধ্যে ৪০০ বাদ। গোটা সিস্টেমটাই ভ্যানিশিং ওয়াশিং মেশিন হয়ে গিয়েছে। মানুষের অধিকারই ভ্যানিশ করে দিচ্ছে। এটা কি বিজেপির জমিদারি, দেশের জমিদার ওরা?’ মমতার হুঁশিয়ারি, ধর্মের কল বাতাসে নড়ে, মানুষ এর জবাব দেবেই। সরাসরি মোদী সরকারের দিকে আঙুল তুলে বলেন, ‘এ সব কে করেছে, কারা করেছে, এক দিন না এক দিন মানুষ কৈফিয়ত চাইবেন। বুকের পাটা থাকলে বলব, তালিকা বার করুন। মানুষকে জানতে দিন, কার নাম আছে, কার নেই।’


রান্নার গ্যাস নিয়েও কেন্দ্রকে বিঁধেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘রাজ্যে পেট্রল ও ডিজেলের অভাব নেই। রাজ্যে গ্যাসের জোগানও যথেষ্ট রয়েছে। তবে হলদিয়ায় যে গ্যাস উৎপাদন হয়, তা ভিনরাজ্যে পাঠানো চলবে না। বাংলায় উৎপাদিত গ্যাস বাইরে পাঠাতে এ রাজ্যের সব প্রশাসনিক কর্তাদের সরানো হয়েছে। কিন্তু এসব চলবে না।’ পাশাপাশি মমতার হুঁশিয়ারি, পশ্চিমবঙ্গে ভোটের কাজে ভিনরাজ্য থেকে প্রায় ১০ লাখ সরকারি কর্মী ও জওয়ান আসবেন। তাঁদের রান্নার জোগান দিতে গিয়ে এ রাজ্যের মানুষের যেন গ্যাসের জোগানে সমস্যা না হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, গ্যাসের সঙ্কটের জন্য কেরোসিনের বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। মানুষ রেশনেও কেরোসিন পাবেন।

শুক্রবারই কেন্দ্র পেট্রল-ডিজেলের অন্তঃশুল্ক হ্রাস করেছে। তা নিয়েও কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, ‘আগে তো কমুক। বাড়িয়েছে কত সে হিসেব আছে? যেন শাড়ির দোকান। এক হাজার টাকা দাম বাড়িয়ে ৪০০ টাকা ছাড় দেওয়া হচ্ছে। শুল্ক কমিয়েছে, তাতে কত দাম কমবে? শুল্ক কত শতাংশ? তবে আমি চাই, মানুষের সুবিধা হোক।’