দ্য স্টেটসম্যান ভিনটেজ অ্যান্ড ক্ল্যাসিক কার র্যালি রবিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৫৫তম বছরের এই র্যালিতে ঐতিহ্যবাহী চার চাকার যানের পাশাপাশি বিশেষ আকর্ষণ ছিল ভিনটেজ ও ক্ল্যাসিক দু-চাকার মোটরযান। শুধুমাত্র প্রদর্শনী নয়, র্যালিতেও অংশ নেয় বহু পুরনো মোটরসাইকেল ও স্কুটার, যা দর্শকদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করে।
আয়োজকরা জানিয়েছে, এবার প্রায় ৫০টি দু-চাকার যান এই র্যালিতে অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ছিল ৭টি ভিনটেজ বাইক ও ১৮টি ক্ল্যাসিক বাইক। রয়্যাল এনফিল্ড, বিএসএ, নর্টন, জাওয়া ও ভেসপার মতো নামী ব্র্যান্ডের একাধিক বিরল মডেল র্যালির ময়দানে দেখা যায়। সকাল ৯টা ১০ মিনিটে পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে র্যালির সূচনা হয়।
Advertisement
ভারতের রাস্তায় চার চাকার গাড়ির ব্যাপক প্রচলনের আগে ব্যক্তিগত যাতায়াতে দু-চাকার যানই ছিল মানুষের প্রধান ভরসা। অফিসযাত্রী, পড়ুয়া, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ— সকলের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল এই যান। সিঙ্গল সিলিন্ডার ইঞ্জিনের শব্দ, ভারী স্টিল ফ্রেম ও সহজ মেকানিক্স আজও এই মোটরযানগুলির পুরনো ঐতিহ্যকে বহন করে চলেছে। র্যালিতে সেই অতীতেরই প্রতিফলন দেখা গিয়েছে।
Advertisement
অনেক অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, তাঁদের মোটরসাইকেলের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অতীতের ব্যক্তিগত স্মৃতি। কারও প্রথম চাকরিতে যাতায়াত, কারও আবার দীর্ঘ সফরের অভিজ্ঞতা আজও এই যানগুলির সঙ্গে জড়িয়ে। রবিবার দর্শকরাও আগ্রহভরে সেই গল্প শোনেন এবং ছবি তোলেন।
এই র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে রয়্যাল ক্যালকাটা টার্ফ ক্লাবের পোলো গ্রাউন্ডে। সকাল থেকেই ভিড় জমাতে শুরু করেন গাড়ি ও মোটরসাইকেলপ্রেমীরা। আয়োজকদের কথায়, এই র্যালির মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে ভারতের মোটরিং ইতিহাস তুলে ধরা সম্ভব হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৮৮৫ সালে বিশ্বের প্রথম যন্ত্রচালিত মোটরসাইকেল তৈরি হয় জার্মানিতে। তারপর থেকে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আজকের আধুনিক যানবাহনের যুগে পৌঁছেছে মানুষ। দ্য স্টেটসম্যান ভিনটেজ অ্যান্ড ক্ল্যাসিক কার র্যালি সেই দীর্ঘ যাত্রাপথেরই এক স্মরণীয় উদ্যাপন হয়ে উঠেছিল রবিবার।
আয়োজকডেড় মতে, ভবিষ্যতেও এই ধরনের ঐতিহ্যবাহী র্যালির মাধ্যমে পুরনো যান সংরক্ষণের বার্তা দেওয়া হবে। বহু সংগ্রাহক তাঁদের যত্নে রাখা যান সাধারণ মানুষের সামনে আনতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন। এদিন কলকাতার তরুণ প্রজন্মও আগ্রহের সঙ্গে এই র্যালিতে অংশ নিয়েছে। অনেকেই ভিনটেজ দু-চাকার যান এই প্রথম কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছে। এই ধরনের আয়োজন শহরের সংস্কৃতি ও ইতিহাসচর্চার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
Advertisement



