আগের সরকার বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করত: শঙ্কর ঘোষ

মঙ্গলবার বিধানসভায় সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা হয়। এদিনের বৈঠক ঘিরেও বিতর্ক দানা বেঁধেছে। জানা গিয়েছে, বিধানসভায় এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ডাক পাননি তৃণমূলের প্রবীণ নেতা তথা বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। ডাক পাননি বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষও। এদিনের সর্বদলীয় বৈঠকে ডাক পেয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় গোষ্ঠী।

এদিনের বৈঠক থেকে বেরিয়ে মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ দৈনিক স্টেটসম্যানের প্রতিনিধিকে  জানান, আগামী ১৮ জুন থেকে প্রথম বিধানসভা অধিবেশন শুরু হতে চলেছে। এই অধিবেশনকে সামনে রেখে মঙ্গলবার প্রথমে সর্বদলীয় বৈঠক এবং পরে বিজনেস অ্যাডভাইজারি কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিগত সময়ে আমরা দেখেছি, তৎকালীন শাসক দল বিরোধীদের কণ্ঠস্বর রোধ করতে বিধানসভাকে ব্যবহার করত। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, যিনি তখন বিরোধী দলনেতা ছিলেন, তাঁকে আমার স্মৃতি যদি ভুল না করে, তবে নয়বারেরও বেশি সাসপেন্ড করা হয়েছিল। আমাকেও প্রায় আটবার এবং ভারতী জনতা পার্টির আরও বহু বিধায়ককে বারবার সদন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।


সেই কালো অধ্যায় পেরিয়ে আমরা পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে একটি নতুন বিধানসভা উপহার দিতে চাই। যেখানে বিরোধীদের মতামত প্রকাশের পূর্ণ সুযোগ থাকবে। গণতন্ত্রে বিরোধী দলের যে মর্যাদা রয়েছে তা প্রতিষ্ঠা করার জন্যই আমরা কাজ করতে চাই।

তিনি আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর প্রথম প্রশাসনিক বৈঠক থেকেই বিরোধী দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরে আমন্ত্রণ জানিয়ে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধীদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হবে। পরিষদীয় দলও মুখ্যমন্ত্রীর এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সম্পূর্ণ সহমত পোষণ করে।

এদিন বিএ কমিটির বৈঠক আগামী অধিবেশনের কর্মসূচি চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। ১৮ জুন সকাল ১১টায় রাজ্যপালের ভাষণের মাধ্যমে অধিবেশন শুরু হবে। ১৯ জুন শোকপ্রস্তাব ও অবিচুয়ারি গ্রহণ করা হবে। ২২ জুন বিধানসভায় বাজেট পেশ করা হবে।

২৩ জুন রাজ্যপালের ভাষণের উপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য মোট ৬ ঘণ্টা সময় বরাদ্দ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এছাড়া ২৪ ও ২৫ জুন বাজেটের উপর আলোচনা হবে। প্রতিদিন ৫ ঘণ্টা করে মোট ১০ ঘণ্টা সময় বাজেট আলোচনার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।য

২৬, ২৭ ও ২৮ জুনের মধ্যে বিভিন্ন ধর্মীয় ও প্রশাসনিক কারণে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকায় বাজেট আলোচনা আরও বাডা়নোর ইচ্ছা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। তবুও সর্বোচ্চ সময় বরাদ্দ করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। বিধানসভার দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে আগামী ৬ জুলাই থেকে। সেই পর্বের আলোচ্যসূচি পরবর্তীকালে বিএ কমিটির বৈঠকে নির্ধারণ করে জানানো হবে বলেও জানান মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ।