সোমবার থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। বহু পড়ুয়া তাঁদের জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা যাতে নির্বিঘ্নে দিতে পারে সেই উদ্দেশে এবার সক্রিয়ভাবে পাশে দাঁড়াল পুলিশ প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন। যাতায়াতের সমস্যা যাতে পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেই দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে তারা।
এ বছর ভাঙড় বালিকা বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন পরীক্ষার্থীর পরীক্ষাকেন্দ্র পড়েছে ভাঙড়-১ ব্লকের চণ্ডীপুর রাংসারা হাইস্কুলে। ভাঙড় বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী কোয়েল সর্দার, সুস্মিতা কর্মকার, তৃষা কর্মকার ও তানিয়া পারভিনের বাড়ি পানাপুকুর ও চকবড়ালি এলাকায়। বাড়ি থেকে পরীক্ষাকেন্দ্রের দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার হলেও ওই সব এলাকা থেকে সরাসরি পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছনোর মতো কোনও গণপরিবহন ব্যবস্থা নেই। এই সমস্যার কথা পড়ুয়ারা স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানায়।
বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেছেন ভাঙড় বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা নূপুর শিকদার। তিনি যোগাযোগ করেন ভাঙড় ট্র্যাফিক গার্ডের ওসি মিদ্দা ইমামুদ্দিনের সঙ্গে। এরপর পরীক্ষার দিনগুলিতে পরীক্ষার্থীদের বাড়ি থেকে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া এবং পরীক্ষা শেষে নিরাপদে বাড়ি ফেরানোর জন্য পুলিশের তরফ থেকে একটি গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়। অন্যদিকে, ব্যারাকপুর স্টেশন থেকে পরীক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুলে পৌঁছে দিতে উদ্যোগ নেয় তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি। পরীক্ষার্থীদের হাতে বিশেষ পাস তুলে দেওয়া হয়, যা দেখিয়ে পরীক্ষা চলাকালীন তারা বিনা ভাড়ায় যাতায়াত করতে পারবে।
পরীক্ষার প্রথম দিনেই বিপাকে পড়ে ব্যারাকপুর হিন্দি হাইস্কুলের পরীক্ষার্থী স্মৃতি সাহানি। টিটাগড় আর্য বিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে ঢোকার মুখে সে বুঝতে পারে, অ্যাডমিট কার্ড বাড়িতে ফেলে এসেছে। কান্নায় ভেঙে পড়া ছাত্রীকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন টিটাগড় থানার এক পুলিশ আধিকারিক। তিনি বাইক নিয়ে স্মৃতির বাড়ি গিয়ে অ্যাডমিট কার্ড এনে দেন।
এদিন ব্যারাকপুরের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (সেন্ট্রাল) ইন্দ্রবদন ঝায়ের নেতৃত্বে পুলিশ আধিকারিকরা পরীক্ষার্থীদের হাতে গোলাপ ফুল তুলে দিয়ে তাদের উৎসাহ দেন। ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের একাধিক জনপ্রতিনিধিও পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানান। সব মিলিয়ে, পরীক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত গড়ল প্রশাসন।