আগামী সোমবার মন্ত্রীসভার পরবর্তী বৈঠকে ডিএ নিয়ে আলোচনা

রাজ্য সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) নিয়ে অবশেষে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নে নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রীসভার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, আগামী সোমবারের মন্ত্রীসভা বৈঠকে ডিএ, বেতন কমিশন এবং এরিয়ার-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আরও একটি মন্ত্রীসভার বৈঠক হবে আগামী সোমবার। সেখানে আরজি কর ঘটনা, নারী নির্যাতন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, বেতন কমিশন, এরিয়ার এবং ডিএ সংক্রান্ত বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করা হবে।‘ সোমবারের বৈঠকে কেন ডিএ নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি, তার ব্যাখ্যাও দেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, ‘সরকার গঠনের পর এটাই প্রথম কর্মদিবস ছিল। হাতে খুব বেশি সময় ছিল না। আগে থেকে প্রস্তুত থাকা কিছু বিষয় নিয়েই এ দিনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।‘

সোমবারের বৈঠকে সরকারি চাকরির আবেদনের বয়সসীমা পাঁচ বছর বৃদ্ধি, সীমান্ত সুরক্ষার জন্য বিএসএফকে জমি প্রদান এবং আয়ুষ্মান ভারত  প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গকে যুক্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পরই সরকারি কর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, কবে মিলবে বকেয়া ডিএ।


বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ক্ষমতায় এলে ৪৫ দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় হারে ডিএ এবং সপ্তম বেতন কমিশন চালু করা হবে। দীর্ঘদিন ধরেই এই দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন সরকারি কর্মচারীদের একাংশ। ২০১৮-এ বহু আবেদন-নিবেদনের পর সরকারি কর্মচারীদের ১৫ শতাংশ ডিএ ঘোষণা করেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সে সময় তাঁর ‘মিউ মিউ-ঘেউ ঘেউ’ মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। বিরোধীরা সে সময় অসংবেদনশীলতার অভিযোগ তুলেছিলেন। কলকাতা হাইকোর্ট এই মন্তব্যকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ আখ্যা দেয়। বকেয়া মহার্ঘ ভাতা নিয়ে সরকার ও কর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাড়ে।  অতীতে ডিএ ইস্যুতে তৎকালীন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে পথে নেমে প্রতিবাদ করেছিলেন শিক্ষক ও সরকারি কর্মচারীরা। সেই আন্দোলনের সময় তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও।

সুপ্রিম কোর্ট বকেয়া ডিএ মামলাটি বিচারাধীন এবং বিভিন্ন পর্যায়ে শুনানি হয়েছে। শিক্ষামহলের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পরও শিক্ষকদের ‘গ্রান্ট ইন এড’ সংক্রান্ত বিষয়ে গড়িমসি করেছিল তৃণমূল সরকার। অন্য সরকারি কর্মচারীদের একাংশের মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হলেও বাদ পড়ে গিয়েছেন শিক্ষকেরা। এমনকি সর্বশেষ বিধানসভায় বাজেটে ঘোষিত ৪ শতাংশ মহার্ঘ ভাতাও দেওয়া হয়নি। এবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ডিএ প্রসঙ্গে তাঁর এই মন্তব্যে সরকারি কর্মীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।