প্রার্থী কারা এবং কী কী নথি লাগবে বুথের বাইরে টাঙাতে হবে তালিকা নির্দেশ কমিশনের

ভোটারদের সুবিধা ও স্বচ্ছ ভোটপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে কমিশন জানিয়েছে, ভোটকেন্দ্রগুলিতে নতুন কিছু নিয়ম এবং পরিষেবার ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে সাধারণ ভোটারদের কোনও অসুবিধা না হয়।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হল প্রতিটি বুথের বাইরে চার ধরনের তথ্যসমৃদ্ধ পোস্টার টাঙানো। এই পোস্টারগুলিতে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রার্থীদের নাম, বুথ সংক্রান্ত তথ্য, ভোটদানের নিয়মাবলি এবং কী করা উচিত বা উচিত নয়—এসব বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা থাকবে। এমনকি ভোটার কার্ড ছাড়াও কোন কোন নথি দেখিয়ে ভোট দেওয়া যাবে, সেই তথ্যও স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। পাশাপাশি, সহজ ভাষায় ভোট দেওয়ার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াও ব্যাখ্যা করা হবে, যাতে প্রথমবারের ভোটাররাও সহজে বুঝতে পারেন।

এছাড়া প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের কাছেই গড়ে তোলা হবে ভোটার সহায়তা কেন্দ্র। সেখানে বুথ স্তরের আধিকারিক বা বিএলও-রা উপস্থিত থাকবেন। তাঁদের দায়িত্ব হবে ভোটারদের সঠিক বুথ চিহ্নিত করতে সাহায্য করা, ভোটার তালিকায় ক্রমিক নম্বর অনুযায়ী নির্দিষ্ট কক্ষ দেখিয়ে দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশ দেওয়া। এই সহায়তা কেন্দ্রগুলি এমন জায়গায় রাখা হবে, যাতে ভোটারদের চোখে সহজেই পড়ে।


নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মোবাইল ফোন ব্যবহারের উপরও কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনও মোবাইল ফোন চালু রাখা যাবে না। ভোটারদের ফোন সুইচ অফ বা সাইলেন্ট করে বুথের বাইরে নির্দিষ্ট স্থানে জমা রাখতে হবে। ভোট দেওয়ার পর তারা সেই ফোন ফেরত নিতে পারবেন।

পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও অসম, তামিলনাড়ু, কেরল এবং পুদুচেরি—এই রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে মোট ২ লক্ষ ১৮ হাজার ৮০৭টি বুথে ভোটগ্রহণ হবে। প্রতিটি বুথে পানীয় জল, শৌচাগার, পর্যাপ্ত আলো, ছায়াযুক্ত অপেক্ষার স্থান এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য র‍্যাম্পের মতো ন্যূনতম পরিষেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪টি আসনে আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং ফল প্রকাশিত হবে ৪ মে।