ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে অর্থ আদায়, ইন্দ্রনীল ও মধুছন্দা সেনের বিরুদ্ধে তদন্ত চলবে : হাইকোর্ট

চাপ বাড়ল ইন্দ্রনীল সেন এবং স্ত্রী মধুছন্দা সেনের। ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন ও তার স্ত্রী মধুচন্দা সেনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় তদন্তের অগ্রগতি রিপোর্ট তলব করলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। একইসঙ্গে তদন্ত চলাকালীন আগামী দু’সপ্তাহ কোনও পদক্ষেপ না করার মৌখিক নির্দেশও দেওয়া হয়েছে আদালতের পক্ষ থেকে। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ৮ জুলাই দুপুর ২টোয়।

শুনানিতে ইন্দ্রনীল সেনের পক্ষের আইনজীবী জিষ্ণু সাহা দাবি করেন, ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে মাথাপিছু ৪ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ আনা হলেও সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানটি ছিল একটি ‘প্রিভিউ শো’। তাঁর বক্তব্য, এতে ২৪ টি দুর্গাপুজোর নাম ছিল এবং এর উদ্দেশ্য বাণিজ্যিক ছিল না।

অভিযোগকারীর আইনজীবী সৌরভ চট্টোপাধ্যায় আদালতে জানান, বহু বছর ধরে তিনি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও দুর্গাপুজোর অনুষ্ঠানের প্রোমোশনের কাজ করছেন। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট ঘটনায় বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ২০০ জন এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বা প্রভাবিত হয়েছেন। তাঁর আরও অভিযোগ, বোলপুর ও শান্তিনিকেতনেও একইভাবে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে।


রাজ্য সরকারের পক্ষের আইনজীবী কল্লোল মণ্ডল সোমবার আদালতে দাবি করেন, ‘মাস আর্ট’ নামে একটি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গিয়েছে। ‘রিভিউ শো’ এবং ‘ডোনার পাস’-এর নামে টাকা নেওয়া হত বলেও দাবি করে পুলিশ। ইউপিআইয়ের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে বলে আদালতকে জানানো হয়। তবে মোট কত টাকা লেনদেন হয়েছে, তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী সংস্থার পক্ষের আইনজীবী।

শুনানি চলাকালীন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে এই ধরনের কর্মকাণ্ডের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল? সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কীভাবে বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে প্রবেশাধিকার পেয়েছিলেন? ইউনেস্কোর লোগো ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগকে ‘গুরুতর বিষয়’ বলে উল্লেখ করে বিচারপতি সেনগুপ্ত বলেন, এমন অভিযোগ আদালতের নজর এড়াতে পারে না।

বিচারপতির প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে ইন্দ্রনীল সেনের পক্ষে আইনজীবী প্রশ্ন তোলেন, ‘এ বিষয়ে সরাসরি কোনও অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না। তবে মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ বহাল রাখে আদালত। বিচারপতি জয় সেনগুপ্তর একের পর এক প্রশ্নে জেরবার ইন্দ্রনীল সেন ও সন্ধ্যা সেনের আইনজীবী। কত টাকা আদায় হয়েছে সেটা জানাতে হবে রাজ্যকে। এটা মাথায় রাখতে হবে আপনারা ইউনেস্কো লোগো ব্যবহার করেছেন ? কত টাকার সংগ্রহ হয়েছে? তদন্তের অগ্রগতি রিপোর্ট জমা দিতে হবে।’ এ বিষয়ে ৮ জুলাই রাজ্যকে রিপোর্ট দিতে হবে।