বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন সূচনা করলেন রাজ্যপাল

বৃহস্পতিবার বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশনের সূচনা করলেন রাজ্যপাল আর এন রবি।  ভাষণের মাধ্যমে এদিন অধিবেশন সূচনা করেন তিনি। অধিবেশন চলবে ২৫ জুন পর্যন্ত। ২২ জুন বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। উদ্বোধনী ভাষণে রাজ্যপাল রাজ্যের বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করে আইন-শৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা এবং উন্নয়নমূলক কর্মসূচির উপর জোর দেন।

রাজ্যপাল বলেন, অনুপ্রবেশের কারণে বাংলার জনবিন্যাস পরিবর্তন এসেছে এবং তা রোধে সরকার দৃঢ় পদক্ষেপ করছে। তিনি জানান, সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করতে বিএসএফকে কাঁটাতার নির্মাণের জন্য জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথাও তুলে ধরেন।

তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে তোলাবজি, দুষ্কৃতী কার্যকলাপ এবং মানবপাচারের বিরুদ্ধে সরকারের পদক্ষেপের প্রসঙ্গও। রাজ্যপালের দাবি, প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপে এই ধরনের অপরাধ দমনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখল হয়ে থাকা জমির উদ্ধার করে শিল্পোন্নয়নের কাজে লাগানোর পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।


জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির মধ্যে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের প্রশংসা করে রাজ্যপাল বলেন, সাধারণ মানুষের স্বার্থে সরকার একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, রাজ্য জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর করা হবে এবং বন্ধ চা বাগানগুলি পুনরায় চালুরর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

পূর্বতন তৃণমূল সরকারের সমালোচনাও শোনা যায় তাঁর বক্তব্যে। রাজ্যপালের অভিযোগ, আগের সরকার দুর্নীতিগ্রস্ত ছিল এবং সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতেন। তিনি আরও দাবি করেন, পরিকল্পিতভাবে চিংড়িহাটা মেট্রো প্রকল্পের কাজ আটকে রাখা হয়েছিল। যার ফলে উন্নয়ন ব্যাহত হয়েছিল।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে প্রতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে এবং মেট্রো প্রকল্পের কাজও পুনরায় শুরু করেছে। সব মিলিয়ে রাজ্যপালের ভাষণে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন, প্রশাসনিক সংস্কার এবং জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির উপর আস্থা ও ভরসার বার্তাই বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।