বৈঠকে থাকা না থাকার ওপর বাংলার ভবিষ্যৎ নির্ভর করে না

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (File Photo: IANS)

দেশের করোনা পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর ডাকা ভিডিও কনফারেন্সে মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, উত্তরপ্রদেশ ইত্যাদি রাজ্যের বলার সুযোগ থাকলেও বক্তার তালিকায় নাম ছিল না বাংলার। এই বিমাতৃসুলভ আচরণের জন্য ক্ষুব্ধ হয়েই মুখ্যমন্ত্রী বুধবার প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে উপস্থিত থাকেননি।

এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁর এই না থাকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মমতার জবাব, একটা মিটিং-এ আমি গেলাম বা না গেলাম, তাতেই কি বাংলার ভবিষ্যৎ ঠিক হয়ে যাবে? বাংলাকে এত দুর্বল ভাবেন কেন? বাংলার মানুষ সম্মান নিয়ে বাঁচতে জানে। মাথা উঁচু করে চলতে জানে। কেন্দ্র প্রয়োজন মনে করেনি, তাই ডাকেনি। তা নিয়ে ঝগড়া করার কিছু নেই। এখন মানুষের স্বার্থে লড়াই করাটাই বড় কাজ।

এই বক্তব্যের মাধ্যমে মমতা এদিন বুঝিয়ে দেন, রাজনৈতিক যুদ্ধ করার চেয়েও মানুষের জন্য সংগ্রামই তার কাছে বড়। করোনা পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির গাফিলতি নিয়ে প্রথমেই সরব হয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী। কিন্তু সেই সঙ্গে একথাও জানিয়েছিলেন এই অতিমারীর সময়ে রাজনৈতিক যুদ্ধ করতে চান না তিনি। তাই কেন্দ্র ও রাজ্য একসঙ্গে মিলে কোভিড পরিস্থিতির বিরুদ্ধে লড়াই করবার আহ্বান জানিয়েছিলেন।


কিন্তু এরপর কোভিড পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে রাজ্যে কেন্দ্রীয় দল পাঠানো থেকে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন নিয়ে মমতার করোনা এক্সপ্রেসের অপব্যাখ্যা নিয়ে তৃণমূলকে ব্যর্থ এবং হেয় প্রতিপন্ন করারই চেষ্টা করা হয়েছে বিজেপির পক্ষ থেকে।

মমতা এদিন মোদির বৈঠকে না ডাকা নিয়ে বলেন, আজ হয়তো বাংলা ডাক পায়নি। কিন্তু এমনও তো হতে পারে, এই বাংলাই একদিন সবাইকে ডাকবে। বাংলাকে নিয়ে গর্ববোধ করুন। নিজেকে দুর্বল ভাববেন না। এদিন মমতা আম্ফানের ত্রাণ নিয়েও কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা যে হতাশাব্যঞ্জক সেকথা বলেন।

আম্ফান মোকাবিলায় রাজ্য সরকার ব্যর্থ, বিরোধীদের এই অভিযোগের উত্তরে বলেন, আস্ফানের পর রাজ্যকে স্বাভাবিক করার যথাসাধ্য চেষ্টা করা হয়েছে। সবটা না করা গেলেও, অন্তত নব্বই শতাংশ করা গিয়েছে। মমতা বলেন, আম্ফান বিপর্যয়ের পর কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল ঘুরে গিয়েছে। এক হাজার কোটি টাকা অগ্রিম হিসেবে দিয়েছে। বাকি টাকা কবে দেবে কে জানে। রাজ্যের তরফে ১.০২ লক্ষ কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতির হিসেব দেওয়া হয়েছে।

আম্ফানের ত্রাণ নিয়ে তৃণমূলের তোলাবাজির অভিযোগ তুলছে বিরোধীরা। এর জবাবে মমতা বলেন, রাজ্য সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ সরাসরি পাঁচ লক্ষ ক্ষতিগ্রস্তদের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন আশ্বাস দেন, ক্ষতিগ্রস্তরাই টাকা পাবেন। যদি কোথাও দুর্নীতি দেখেন, পুলিশ প্রশাসনকে জানাবেন। ডিজি পুলিশকে বলে দিচ্ছি অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।