শান্তিপুরের বিখ্যাত বামা কালীর নাচ দেখতে প্রতি বছরই লাখ লাখ মানুষের ভিড় জমে। তবে এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে এবং ভিড় সামলাতে ঐতিহ্যবাহী ওই নাচের স্থান পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিল প্রশাসন ও পুজো কমিটি। এতদিন ধরে শান্তিপুরের বড়বাজার ঘাট চৌরাস্তার মোড়ে যে নাচের আয়োজন করা হত, এ বছর তা সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বেজপাড়ার মাঠে।
দুর্গাপুজোর আগেই স্থানীয় বিধায়ক, পুজো কমিটির কর্মকর্তা এবং পুলিশ-প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের মধ্যে এক বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকেই সর্বসম্মতিক্রমে নাচের জায়গা বদলানোর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি নতুন ওই স্থান এবং সংলগ্ন এলাকা ও মন্দির পরিদর্শন করেছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এবার চৌরাস্তা থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে বেজপাড়ার বড় মাঠে নাচের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
প্রশাসনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, এবার নাচ দেখার ক্ষেত্রে বেশ কিছু কড়া নিয়ম মেনে চলতে হবে। মূল নাচের স্থানটি ব্যারিকেড দিয়ে ঘেরা থাকবে। যে হাতেগোনা কয়েকজন ভক্ত বা সদস্য মাকে কাঁধে নিয়ে নাচাবেন, কেবল তাঁরাই ওই ব্যারিকেডের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন।
সাধারণ মানুষের সুরক্ষার কথা ভেবে তাঁদের জন্য আলাদা ব্যারিকেড করা হচ্ছে। যার বাইরে দাঁড়িয়ে দর্শনার্থীরা মায়ের নাচ উপভোগ করতে পারবেন। পুরো এলাকাটি পুলিশ আধিকারিক ও পুজো কমিটির ভলান্টিয়াররা ঘিরে রাখবেন। যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা বা দুর্ঘটনা না ঘটে। জরুরি পরিস্থিতির জন্য উপস্থিত থাকবে বিশেষ মেডিকেল টিম।
যানজট এড়াতে গাড়ি ও বাইক পার্কিংয়ের জন্য আলাদা নির্দিষ্ট জায়গা রাখা হচ্ছে। পুজো উদ্যোক্তারা জানান, ১৯৬৯ সালে প্রথম ঘটপুজোর মাধ্যমে এই পুজোর সূচনা হয় এবং ১৯৭০ সাল থেকে প্রতিমাপুজো শুরু হয়। জানা যায়, স্থানীয় বাসিন্দা যমুনা চৌধুরী স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পর এই পুজোর প্রচলন করেছিলেন। শুরুর দিকে দেবী ‘যমুনা কালী’ নামে পরিচিত থাকলেও পরবর্তীকালে তিনি ‘বামা কালী’ হিসেবে জনমানসে খ্যাতি লাভ করেন। কালক্রমে এই কালীর নাচ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে ও অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন: ধেয়ে আসছে অর্ণব, বুধেই আছড়ে পড়বে ঘূর্ণিঝড়! উত্তর-দক্ষিণে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস
চলতি বছরে উৎসবের মরশুমে যাতে কোনও বিশৃঙ্খলা না হয়, সেজন্যই প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপ। তবে স্থান ও নিয়মে পরিবর্তন এলেও ভক্তদের উৎসাহে কোনো খামতি হবে না বলে পুজো উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন।