মমতা-ঋতব্রতকে জোড়া চিঠি জ্ঞানেশের, তৃণমূল কার? সময়সীমার মধ্যে দিতে হবে জবাব

নিজস্ব গ্রাফিক্স।

নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করে বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের ফুলবেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির। পাল্টা এই বৈঠককে ‘বেআইনি এবং অসাংবিধানিক’ বলে দাবি করল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। অমিত শাহের কথাতেই ‘নিয়ম-বহির্ভূত’ভাবে ঋতব্রতদের ডেকেছিল নির্বাচন কমিশন। শাহের বিরুদ্ধে দল ভাঙানোর রাজনীতির অভিযোগ তুলে জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে এই বৈঠককে মিলিয়ে দিয়েছে ‘কালীঘাট তৃণমূল’। এই আবহে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জোড়া চিঠি এল বঙ্গে। একটি চিঠি পেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর একটি চিঠি পেলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা-সহ মোট ১০ জন বিধায়ক জ্ঞানেশ কুমারের সাক্ষাতের পরেই নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মমতার শিবিরের দুই সাংসদ সৌগত রায় (লোকসভা) এবং সাগরিকা ঘোষ (রাজ্যসভা)। সৌগত রায়ের অভিযোগ, জ্ঞানেশের মাধ্যমে অমিত শাহই এখন নির্বাচন কমিশন চালান। ঋতব্রতদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বৈঠকও হয়েছে তাঁর কথাতেই। এই বিষয়ে সাংসদ সৌগত রায় বলেন, ‘অমিত শাহ দল ভাঙানোর খেলায় মেতেছেন। রামমন্দিরের টাকাও নিয়ে নিয়েছে। ওই টাকাতেই তো দল ভাঙানোর খেলা চলছে।’ কিন্তু তারপরই এসেছে চিঠি।

অন্যদিকে ওই চিঠিতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বলা হয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেস কার? সংগঠনের নির্বাচন, সই করার অধিকার-সহ দু’পক্ষের দাবি পাল্টা দাবি নিয়ে জবাব চাওয়া হচ্ছে। তাঁদের এই বিষয়গুলি নিয়ে জবাব পাঠাতে হবে আগামী ৬ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে। সোমবার এই সময়সীমার মধ্যে দুই পক্ষকে তা লিখিত আকারে জানাতে হবে। এই চিঠি আসার পর রাজ্য-রাজনীতিতে জোর আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। এখন দেখার জল কতদূর এবং কোনদিকে গড়ায়।


তাছাড়া নির্বাচন কমিশনই জানিয়েছিল, কোনও রাজনৈতিক দলের স্বীকৃত প্রতিনিধিরাই শুধু দেখা করতে পারবে। সেখানে ঋতব্রত-সন্দীপন দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরেও কেন তাঁদের ডাকা হলো? এই নিয়ে সাগরিকা ঘোষের তোপ, ‘নির্বাচন কমিশন তো এখন বিজেপির হাতে। একটা অবিন্যস্ত টিম নিয়ে গিয়ে ওরা দেখা করে এসেছে। এই বৈঠক বেআইনি ও অসাংবিধানিক।’ যদিও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করার পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাফাই, ‘নির্বাচন কমিশনের ফুলবেঞ্চের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা হয়েছে। আমরাই অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক, কাউন্সিলর এবং জেলার নেতারা আমাদের সঙ্গেই রয়েছেন।’