বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। মঙ্গলবার শুনানিতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পক্ষের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, বিধানসভা নির্বাচনে দলের প্রতীক ও সংগঠনের ভিত্তিতেই ৮০ জন বিধায়ক জয়লাভ করেছিলেন। সেই প্রেক্ষিতে বিধানসভা ও সংসদীয় রীতিনীতি মেনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, ১৫ মে মুখ্যমন্ত্রী এবং বর্তমান বিরোধী দলনেতার একসঙ্গে থাকা একটি ছবি প্রকাশ্যে আসে। তবে তার আগে কোনও বিধায়ক এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলেননি।
আদালতের প্রশ্নের উত্তরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ১৯ মে সমস্ত বিধায়ককে বৈঠকের জন্য ডাকা হয়েছিল। সেই সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে নোটিসও পাঠানো হয়েছিল। তাঁর দাবি, ৬ মে মৌখিকভাবে সিদ্ধান্ত গৃহীত হলেও সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবে বিধায়কদের স্বাক্ষর নেওয়া হয় ১৯ মে। বর্তমানে যাঁরা ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন, তাঁরাও ওই নথিতে স্বাক্ষর করেছিলেন বলে আদালতে দাবি করেন কল্যাণ।
মামলার শুনানি চলাকালীন ডিভিশন বেঞ্চের প্রশ্ন, ‘বিরোধী দলনেতাকে যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়করা মনোনীত করে থাকেন, তাহলে আপত্তির কারণ কী?’ উত্তরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বিরোধী দলনেতা কেবল বিধানসভার নেতা নন, তিনি রাজনৈতিক দল ও বিধানসভার মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী প্রতিনিধি।‘ তাঁর অভিযোগ, দলের সাংগঠনিক সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে অন্য প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।
বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, ‘যাঁকে ৫৮ জন বিধায়ক সমর্থন করেছেন, তিনি বিধানসভার বিরোধী শিবিরের নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। দলের সাংগঠনিক নেতা হিসেবে নয়?’ এ প্রসঙ্গে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘রাজনৈতিক দলই মূল সংগঠন এবং পরিষদীয় দল তারই অংশ। রাজনৈতিক দল ও আইনসভার দলকে পৃথক সত্ত্বা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।’
শুনানিতে এফআইআর দায়েরের সময় নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। আদালত জানতে চাইলে আইনজীবী জানান, সংশ্লিষ্ট এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল ২৭ মে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও দাবি, নির্বাচিত বিধায়কেরা দলের প্রতীক ও সংগঠনের সমর্থন নিয়েই জয়ী হয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল করতে পারে। সেই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, দলের তহবিল থেকে নির্বাচনী খরচের জন্য প্রার্থীদের আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়েছিল।
বিচারপতি শম্পা সরকারের প্রশ্ন, তিনি যদি স্পিকারের স্থানে থাকতেন, তাহলে কী করতেন? এর জবাবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘তিনি সংবিধান ও রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত উভয়কেই গুরুত্ব দিতেন।‘ এরপর আদালত প্রশ্ন তোলে, ‘স্পিকারের সিদ্ধান্ত কি ব্যক্তিগত বিবেচনার ভিত্তিতে হতে পারে? নাকি সংবিধান অনুযায়ী হওয়া উচিত?’ আগামি বুধবার মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।