বুধবার রাতে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে খুন করা হয় শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে। আর এই খুনে আততায়ীরা যে গাড়ি ব্যবহার করেছে তার সঙ্গে যোগ মিলেছে শিলিগুড়ির। মধ্যমগ্রামে দুষ্কৃতীর গুলিতে খুন হওয়া চন্দ্রনাথ রথে খুনে ব্যবহৃত গাড়ির নম্বর শিলিগুড়ির। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শহরে। অন্যদিকে, চন্দ্রনাথ রথ খুন হতেই শিলিগুড়িতে শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বিজেপি নেতা দীপঙ্কর আরোরার বাড়ির সামনে নিরাপত্তা বসিয়েছে পুলিশ। মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয়বাহিনী।
জানা গিয়েছে, শুভেন্দু অধিকারির আপ্ত সহায়কের খুনের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দুষ্কৃতীদের ব্যবহার করা গাড়ির নম্বর প্লেট থেকে গাড়ি মালিকের হদিশ মেলে। ব্যবহৃত গাড়িতে যে নম্বর প্লেটটি রয়েছে, তদন্ত করে দেখা যায় সেটির মালিক শিলিগুড়ির বাসিন্দা। এরপরই রাতারাতি শিলিগুড়ি কমিশনারেটের পুলিশকে পদক্ষেপের নির্দেশ দেন ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। তদন্তে জানা যায়, মাটিগাড়া নকশালবাড়ি বিধানসভার অন্তর্গত মাটিগাড়ার হালের মাথা নামক এলাকার বাসিন্দার ওই একই নম্বরের গাড়ি রয়েছে।
সেই গাড়ি মালিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডেকে পাঠানো হয়। তবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জানা যায়, সেই গাড়ির মালিক উইলিয়াম যোসেফ। তিনি একজন চা বাগানের কর্মী। টি টেস্টিং ম্যানেজার। দু’সপ্তাহ আগে তিনি গাড়িটি বিক্রির উদ্দেশে অনলাইন বিপণন সংস্থা ওএলএক্সে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। সেই গাড়ি এখনও তার বাড়িতেই রয়েছে। সেই বিজ্ঞাপন থেকেই হয়তো গাড়ির নম্বরটি চুরি করা হয়েছে। যদিও গাড়ির মালিককে জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ ছেড়ে দেয়।
গাড়ি মালিক উইলিয়াম যোসেফ শিলিগুড়ির মাল্লাগুড়ির বাসিন্দা হলেও বর্তমানে তিনি শিবমন্দিরের হালের মাথায় থাকেন। আরটিও মারফত যখন গাড়ির নাম্বার মিলিয়ে দেখা হয় তখন শিলিগুড়ির ঠিকানা পাওয়া যায়। মাটিগাড়া থানার পুলিশ উইলিয়ামকে ফোন করেন এবং শিলিগুড়ি প্রধাননগর থানায় নিয়ে গিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে উইলিয়াম তাঁর গাড়ির নথি এবং বিজ্ঞাপন সবটাই পুলিশের কাছে জমা দেন। পুলিশ সবটা দেখার পর উইলিয়ামকে ছেড়ে দেয়।
গাড়ির মালিক জোসেফ জানান, ‘রাতেই পুলিশ আমাকে ডেকে নিয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদ করে৷ আমি সব নথি দেখাই। তারপর তারা আমাকে ছেড়ে দেয়৷ তখনও আমি কিছুই জানতাম না৷ কেন পুলিশ জিজ্ঞাসবাদ করছে? পরে খবরে এই ঘটনার কথা জানতে পারি। আমার গাড়ির নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ গাড়ি আমার কাছেই রয়েছে। একটা বড় অপরাধ হয়েছে। কিছুটা হলেও আতঙ্কে রয়েছি।‘
অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে শুভেন্দু অধিকারি ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত দীপঙ্কর আরোরা। শুভেন্দু অধিকারি উত্তরবঙ্গে আসলেই তিনি শুভেন্দুর সর্বক্ষণের সঙ্গী। চন্দ্রনাথ রথ খুন হওয়ার পরই দীপঙ্কর আরোরা ওরফে মানিকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করেছে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট। রাতেই তার বাড়ির সামনে মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ। দীপঙ্কর আরোরা ওরফে মানিক বলেন, ‘যে ঘটনা ঘটেছে তা নিন্দনীয়। যারা এর পিছনে রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আমাদের সরকার কড়া পদক্ষেপ করবে। আমাকেও পুলিশ প্রশাসনের তরফে সতর্ক করে নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমি মানা করে দিয়েছি। তবে চলেফেরার ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। সেগুলো মাথায় রাখব।‘