টানা বৃষ্টির জেরে দামোদর নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় ভেঙে গেল আসানসোলের বানপুর সংলগ্ন ঈশ্বরডা ঘাটের অস্থায়ী বাঁশের সেতু। জল বাড়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বাঁশ ও দড়ি দিয়ে তৈরি এই সেতুটি নদীর জলে তলিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়া ও পশ্চিম বর্ধমান জেলার সীমান্তবর্তী বহু গ্রামের মানুষের কাছে এই সেতুই ছিল যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। প্রতিদিন অসংখ্য শ্রমিক, ব্যবসায়ী, ছাত্র-ছাত্রী ও নিত্যযাত্রীরা এই সেতুর উপর নির্ভর করে আসানসোল ও বাঁকুড়ার মধ্যে যাতায়াত করতেন।
সেতুটি ভেঙে যাওয়ার ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এখন নদী পারাপারের জন্য নৌকার উপরই নির্ভর করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। পাশাপাশি গন্তব্যে পৌঁছতে অনেককেই ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সেতু ভেঙে যাওয়ার পর নৌকা ভাড়াও বেড়ে গিয়েছে। আগে যেখানে নদী পারাপারে ২০ টাকা খরচ হতো, এখন সেখানে গুনতে হচ্ছে ৫০ টাকা পর্যন্ত। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন স্কুল-কলেজের পড়ুয়া এবং প্রতিদিন কর্মস্থলে যাতায়াত করা মানুষজন।
এলাকাবাসীর দাবি, এটি নতুন কোনও সমস্যা নয়। প্রতি বছর বর্ষাকালে দামোদরের জলস্তর বাড়লেই এই অস্থায়ী সেতু ভেঙে যায়। পরে জল কমলে আবার নতুন করে সেতু তৈরি করা হয়। কিন্তু বছরের পর বছর একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হলেও স্থায়ী সেতু নির্মাণের কোনও উদ্যোগ এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, নদীর জলস্তর কমে গেলে পুনরায় অস্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হবে। তবে স্থায়ী সেতু নির্মাণের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
ফলে আবারও স্থায়ী সেতুর দাবিতে সরব হয়েছেন এলাকার মানুষ। তাঁদের বক্তব্য, একটি স্থায়ী সেতু নির্মিত হলে হাজার হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং দুই জেলার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ ও নিরাপদ হবে।