সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে ভাঙল রাজ্যের সপ্তদশ বিধানসভা, রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে প্রকাশিত একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ওই নোটিফিকেশনে দাবি করা হয়েছে, ৭ মে থেকে পশ্চিমবঙ্গের সপ্তদশ বিধানসভা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাজ্যপাল আর. এন. রবি ভারতীয় সংবিধানের ১৭৪ অনুচ্ছেদের ২ নম্বর ধারার (খ) উপধারা প্রয়োগ করে এই নির্দেশ জারি করেছেন।

‘দ্য কলকাতা গেজেট এক্সট্রাঅর্ডিনারি’-তে প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, বিধানসভার কার্যকাল আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত করা হয়েছে। সরকারের তরফে বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করেন আইএএস মুখ্যসচিব দুষ্যন্ত নারিয়ালা।  এই ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। বিভিন্ন রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পরও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইস্তফা দেননি। যদিও এই সংক্রান্ত একাধিক দাবি এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত হয়নি।

বিধানসভা ভেঙে যাওয়ার ফলে প্রশাসনিক দায়িত্ব এখন কার হাতে থাকবে, তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। সংবিধান বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বিধানসভা ও মন্ত্রীসভার কার্যকারিতা শেষ হয়ে গেলে রাজ্যের শাসনভার কার্যত রাজ্যপালের হাতেই থাকে। কারণ, সংবিধান অনুযায়ী রাজ্যের প্রশাসনিক কাজ রাজ্যপালের দ্বারাই পরিচালিত হয় এবং মন্ত্রীসভা সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করে। বর্তমানে যেহেতু নতুন  সরকার এখনও শপথ নেয়নি, তাই অন্তর্বর্তী পরিস্থিতিতে রাজ্যপাল সরাসরি প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।


অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন। শুক্রবার বিজেপিকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে এবং শনিবার নতুন মন্ত্রীসভার শপথগ্রহণ হতে পারে বলেও বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত রাজভবনের তরফে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।