পরিবর্তন যাত্রার রথে হামলার অভিযোগে উত্তেজনা, সংঘর্ষে বিজেপি-তৃণমূল

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন এগিয়ে আসতেই রাজনৈতিক ময়দানে তৎপরতা বাড়িয়েছে বিভিন্ন দল। সেই আবহে পরিবর্তনের ডাক দিয়ে রাজ্যজুড়ে ‘পরিবর্তন যাত্রা’ শুরু করেছে বিজেপি। তবে এই কর্মসূচিকে ঘিরেই বৃহস্পতিবার নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায় কোচবিহার ২ নম্বর ব্লকের রাজারহাট সংলগ্ন এলাকায়। পরিবর্তন যাত্রার রথে হামলার অভিযোগ কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়ায় বিজেপি ও তৃণমূল।

বিজেপির দাবি, স্থানীয় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। যদিও জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। এই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার ভাঙা গাড়ি নিয়েই পথে নামেন বিজেপি নেতাকর্মীরা। ফলে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশবাহিনী, যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

উল্লেখ্য, উদ্বোধনের পর দোলযাত্রার কারণে তিনদিন কার্যত বন্ধ ছিল এই কর্মসূচি। বৃহস্পতিবার থেকে ফের ‘পরিবর্তন যাত্রা’ শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছিল বিজেপি। এদিন এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে কোচবিহারের শীতলকুচিতে আসার কথা রয়েছে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী জিতিন প্রসাদের। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে রথটি নিরাপদে রাখার জন্য কোচবিহার উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের পুন্ডিবাড়ি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। কিন্তু সেখানে পৌঁছনোর আগেই রাজারহাট এলাকায় রথ আটকে ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ।


ঘটনার পর কোচবিহার উত্তর কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক সুকুমার রায় বলেন, রথযাত্রা বৃহস্পতিবার থেকে আবার শুরু হওয়ার কথা ছিল। তাই সেটিকে নিরাপদ জায়গায় রাখার জন্য পুন্ডিবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সেই সময় রাজারহাট এলাকায় তৃণমূলের যুব সংগঠনের সহ-সভাপতি সায়নদীপ গোস্বামীর নেতৃত্বে কয়েকজন তৃণমূল কর্মী এসে গাড়িটি আটকে দেয় বলে তাঁর অভিযোগ। সুকুমার রায়ের দাবি, পুলিশের সামনেই গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়, কিন্তু পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। নির্বাচনের আগে এই ঘটনায় খাগড়াবাড়িতে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।