হুগলিতে ভোট গ্রহণে উত্তেজনা, বুথ ভাঙচুর, সংঘর্ষ— একাধিক অশান্তি

হুগলিতে সংঘর্ষের চিত্র।

বাংলায় দ্বিতীয় দফার ভোটে হুগলি জেলায় একাধিক অশান্তির অভিযোগ সামনে আসায় নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বুথ ভাঙচুর, দলীয় কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং ভোটগ্রহণে বাধা— এই সব ঘটনাকে ঘিরে দিনভর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন এলাকায়।

চুঁচুড়া বিধানসভা কেন্দ্রে ২৭ থেকে ২৯ নম্বর বুথে তৃণমূল কংগ্রেসের শিবির ভেঙে দেওয়া এবং ভোটার তালিকা ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় সূত্রে দাবি, কিছু সমর্থক নাকি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বুথের আশপাশ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এই ঘটনায় ভোটের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

অন্যদিকে, খানাকুলের রাজহাটি-১ পঞ্চায়েত এলাকার রামচন্দ্রপুরে ১৪৭ নম্বর বুথে তৃণমূল ও ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, ভুয়ো ভোট এজেন্টকে ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়ে পরে তা হাতাহাতিতে গড়ায়। কিছু সময়ের জন্য ভোটগ্রহণ ব্যাহত হয়।


এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ভোটগ্রহণ ফের শুরু হয় বলে জানা গিয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক আধিকারিক জানান, ঘটনাটি বড় আকার নেয়নি এবং দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়েছে। এলাকায় মহিলা নিরাপত্তা বাহিনীর একটি ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করা হয়েছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।

এদিকে রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার অভিযোগ করেন, সকাল থেকেই বিভিন্ন জায়গা থেকে অশান্তির খবর আসছে। তাঁর দাবি, প্রথম দফার তুলনায় দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ অতটা নির্বিঘ্নে হয়নি। সেজন্য দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার প্রয়োজন রয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, হুগলির এই ঘটনাগুলি দেখাচ্ছে যে দ্বিতীয় দফার ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কতটা তীব্র আকার নিয়েছে। একদিকে শাসক তৃণমূল কংগ্রেস, অন্যদিকে বিজেপি সহ অন্যান্য বিরোধী দল—সবাই নিজেদের প্রভাব বাড়াতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। সব মিলিয়ে, ছিটেফোঁটা অশান্তি সত্ত্বেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ ভোটের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে এই ধরনের ঘটনাগুলি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা। এখন নজর রয়েছে বাকি ভোটগ্রহণ ও ফলাফলের দিকে।