অভিষেকের মতুয়া ঠাকুরবাড়ি সফর ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

আগামী ৯ জানুয়ারি ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে যাওয়ার কথা। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায়। অভিষেকের সফরের বিরোধিতা করে বিজেপি সাংসদ ও কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর যে কড়া অবস্থান নিয়েছেন, তার পাল্টা হুঁশিয়ারিতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক টানাপড়েনের মাঝেই সাধারণ মতুয়াদের চোখ এখন ঠাকুরবাড়ির দিকে।

এর আগে গত মঙ্গলবার শান্তনু ঠাকুর স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন, পুলিশ ফোর্স নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঠাকুরবাড়িতে এলে তাঁকে ঢুকতে দেওয়া হবে না। সেই মন্তব্যের পর বুধবার তৃণমূল প্রভাবিত অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের সাধারণ সম্পাদক সুকেশ চন্দ্র চৌধুরী পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পথ আটকানোর চেষ্টা হলে মতুয়া সমাজ চুপ করে বসে থাকবে না। কেউ যদি বাধা দেয়, ঠাকুরবাড়িতে রক্তের বন্যা বইতে পারে।’ এই বক্তব্য ঘিরে এলাকায় শোরগোল শুরু হয়েছে।

এর আগেও ঠাকুরবাড়িকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘাতের ছবি দেখা গিয়েছে। গত বছর নবজোয়ার কর্মসূচির সময়ে অভিষেক ঠাকুরবাড়িতে এলে তাঁকে হরিচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। সে সময় শান্তনু ঠাকুর নিরাপত্তারক্ষী ও বিজেপি কর্মীদের নিয়ে আগেই মন্দির চত্বরে অবস্থান নেন। ফলত পুজো দিতে পারেননি অভিষেক। সেই দিন ঠাকুরবাড়িতেই দাঁড়িয়ে তিনি বলেছিলেন, পরিস্থিতি অশান্ত হতে পারে বলেই তিনি জোর করে মন্দিরে ঢোকেননি।


এ বার ফের সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা করছেন অনেকেই। বাগদার তৃণমূল বিধায়ক মধুপর্ণা ঠাকুর এই পরিস্থিতিতে শান্তনু ঠাকুরকে সংযত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আগে প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঠাকুরবাড়িতে এসেছেন নিরাপত্তারক্ষী ও পুলিশ ফোর্স নিয়ে। তখন কোনও সমস্যা হয়নি। অভিষেক সাংসদ, তাঁর সঙ্গে নিরাপত্তা থাকবেই। এই নিয়ে অশান্তি তৈরি করা উচিত নয় বলেই মত তাঁর।

এই রাজনৈতিক সংঘাতের আবহে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে নাগরিকত্ব ইস্যু। বনগাঁ মহকুমায় প্রায় এক লক্ষ কুড়ি হাজার মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষকে নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে হাজির হতে হবে। প্রয়োজনীয় নথির অভাবে বহু মানুষের মধ্যে নাগরিকত্ব হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসের পরেও মতুয়াদের একাংশের উদ্বেগ কাটেনি। এই পরিস্থিতিতে অভিষেক ঠাকুরবাড়িতে এসে নাগরিকত্ব প্রশ্নে কী বার্তা দেন, তা জানতে আগ্রহী সাধারণ মতুয়ারা।

শান্তনু ঠাকুর প্রথমে বলেছিলেন, ঠাকুরবাড়িতে যে কেউ আসতে পারেন। কিন্তু পরক্ষণেই তিনি জানান, আগের মতো পুলিশ ফোর্স নিয়ে এলে অভিষেককে এ বার ঢুকতে দেওয়া হবে না। এই অবস্থানের তীব্র বিরোধিতা করে সুকেশ চন্দ্র চৌধুরী বলেন, ঠাকুরবাড়ি কোনও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। বড়মা ঠাকুরবাড়ির সম্পত্তি হরিচাঁদ ও গুরুচাঁদ ঠাকুরের নামে দেবত্র করেন। এই বাড়ি মতুয়া ভক্তদের। অভিষেক পুজো দিতে আসবেন এবং কেউ বাধা দিলে মতুয়ারা প্রতিরোধ করবে।

ফলে অভিষেকের সফরের দিন যত এগোচ্ছে, ঠাকুরনগরে ততই রাজনৈতিক চাপানউতোর বাড়ছে। প্রশাসনের ভূমিকা কী হবে এবং শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, সে দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও মতুয়া সমাজের।