রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর একের পর এক বিতর্ক সামনে আসছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল তৃণমূল কংগ্রেসের অস্থায়ী দলীয় কার্যালয়। মেট্রোপলিটন এলাকার যে বহুতলে গত কয়েক বছর ধরে তৃণমূলের অস্থায়ী সদর দফতর চলছে, সেই ভবন ফেরত চেয়ে সরব হয়েছেন ভবনের মালিক ও পরিচিত ডেকরেটর ব্যবসায়ী মন্টু সাহা ওরফে মনোতোষ সাহা। তাঁর দাবি, চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও ভবনটি খালি করা হয়নি। তাই তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
জানা গিয়েছে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তপসিয়ায় অবস্থিত পুরনো তৃণমূল ভবন ভেঙে নতুন আধুনিক দলীয় সদর দফতর নির্মাণের কাজ শুরু হয়। সেই সময় সাময়িকভাবে দলীয় কার্যালয় স্থানান্তর করা হয়েছিল ইএম বাইপাস সংলগ্ন মেট্রোপলিটনের একটি বহুতলে। ওই ভবনটির মালিক মন্টু সাহা। দীর্ঘদিন ধরে সেখান থেকেই দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যকলাপ পরিচালিত হয়ে আসছে।
মন্টু সাহার দাবি, ভবন ব্যবহারের জন্য যে চুক্তি হয়েছিল তার মেয়াদ ২০২৫ সালেই শেষ হয়েছে। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত ভবনটি খালি করা হয়নি। ফলে তিনি নিজের সম্পত্তির দখল ফিরে পাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিতে আইনি পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
রবিবার সকালে মন্টু সাহার ছেলে অমিত সাহা সংবাদমাধ্যমকে জানান, ভবনটির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে না। পাশাপাশি তাঁদের ব্যবসায়িক প্রয়োজনেও এখন ওই জায়গাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে তৃণমূল ভবনে গেলে নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁদের ভিতরে প্রবেশ করতে দেননি। এরপরই পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি বা লিখিত অভিযোগ দায়ের করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। কারণ মন্টু সাহা একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দলের বহু গুরুত্বপূর্ণ সভা, সমাবেশ, মঞ্চ নির্মাণ এবং সাংগঠনিক অনুষ্ঠানের দায়িত্ব তাঁর সংস্থাই সামলাত বলে রাজনৈতিক মহলের দাবি।
অতীতে বিরোধী বিজেপির পক্ষ থেকেও অভিযোগ করা হয়েছিল যে, বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠান এবং প্রকল্পের কাজে মন্টু সাহার সংস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতো। যদিও মন্টু সাহা বরাবরই দাবি করেছেন, তিনি কাজ করলেও অনেক ক্ষেত্রেই তাঁর প্রাপ্য অর্থ মেটানো হয়নি। তবে তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তিনি প্রকাশ্যে কোনও অভিযোগ করেননি।
এখন যদি সত্যিই থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়, তাহলে বিষয়টি নতুন আইনি ও রাজনৈতিক মাত্রা পেতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। ফলে মেট্রোপলিটনের এই অস্থায়ী তৃণমূল ভবনকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।