পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে হিংসার অভিযোগকে সামনে রেখে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিজেপির রাজ্যসভা সাংসদ স্বাতী মালিওয়াল। একইসঙ্গে আম আদমি পার্টির নেতৃত্বকেও কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর দাবি, বাংলার ভোটে বারবার যে অশান্তির ছবি সামনে আসে, তা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের একটি প্রবণতা।
স্বাতী মালিওয়াল বলেন, ‘বাংলা থেকে খুব ভয়াবহ ছবি সামনে আসে। এটা শুধু এই নির্বাচনের বিষয় নয়, প্রত্যেকবারই এমন ছবি দেখা যায়।’ তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের ‘গুন্ডাগিরি’র কারণেই রাজ্যে বিজেপির শক্তি বাড়ছে এবং তার ফলেই রাজনৈতিক পালাবদলের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
Advertisement
শুধু তৃণমূল নয়, আম আদমি পার্টিকেও তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘আম আদমি পার্টি পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে। এটা কেমন রাজনীতি? কেউ যখন জানে সে শূন্য পাবে, তখন ব্যাট-বল নিয়ে মাঠ ছেড়ে চলে যায়।’ অরবিন্দ কেজরীওয়ালের আচরণ নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তিনি।
Advertisement
কেজরীওয়ালের ‘সত্যাগ্রহ’ প্রসঙ্গ টেনে মালিওয়াল প্রশ্ন তোলেন, ‘এটা কেমন সত্যাগ্রহ, যেখানে বলা হচ্ছে— আমি চোর নই, আমি এই বিচারপতিকে চাই না? সত্যাগ্রহের উদ্দেশ্য তো বিশুদ্ধ হওয়া উচিত।’ তাঁর মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক শালীনতার পরিপন্থী এবং এক ধরনের অরাজকতার ইঙ্গিত দেয়।
তিনি বিচারপতি স্বর্ণা কান্তা শর্মার পক্ষেও সুর চড়ান। মালিওয়ালের বক্তব্য, ‘দেশে মহিলা বিচারপতির সংখ্যা কম। একজন মহিলা বিচারপতি নিজের পরিশ্রমে এই জায়গায় পৌঁছেছেন। তাঁকে এভাবে অপমান করা ঠিক নয়।’
এছাড়াও ব্যক্তিগত আক্রমণের রাজনীতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। রাঘব চাড্ডা ও অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়াকে নিয়ে মন্তব্যের প্রসঙ্গে মালিওয়াল বলেন, ‘কারও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এই ধরনের মন্তব্য করা লজ্জাজনক। একজন মহিলাকে নিয়ে এভাবে কথা বলা উচিত নয়।’
নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, ‘আমার উপর আক্রমণ হওয়ার পর আমি অভিযোগ জানাতে গেলে আমার পরিবারকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করা হয়।’
সবশেষে তিনি বলেন, এই ধরনের আচরণ আম আদমি পার্টির রাজনীতির একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে, যেখানে গঠনমূলক আলোচনার বদলে ব্যক্তিগত আক্রমণ বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
Advertisement



