ছুটির দিনে অফিসে হাজিরা দিতে হবে, কর্মীদের নির্দেশিকা স্বাস্থ্যদপ্তরের

Swasthya Bhavan Photo-ANI

স্বাস্থ্য হলো জরুরি পরিষেবা। তাই ছুটির দিন হলেও কর্মীদের অফিসে আসতে হবে। হাজিরা দিতে হবে। কারণ জরুরি পরিষেবা মানুষকে দিতেই হবে। সেক্ষেত্রে অফিস ফাঁকা রেখে ছুটি কাটানো যাবে না। ছুটির দিনে দপ্তর পুরোপুরি ফাঁকা না রেখে পালা করে হলেও ছুটির দিনে দিতে হবে হাজিরা। এবার স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে এই মর্মে জারি করা হয়েছে নির্দেশিকা। ওই নির্দেশিকা অনুযায়ী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের যাবতীয় প্রশাসনিক কাজ নির্বিঘ্নে চালাতে হবে। শনিবার এবং সরকারি ছুটির দিন অফিসারদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।

ছুটির দিন অনেক জরুরি এবং বড় সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তখন স্বাস্থ্য অফিসাররা না থাকলে সমস্যা তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতি যাতে না তৈরি হয় তার জন্যই এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ভবনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, দরকার পড়লে সংশ্লিষ্ট ব্রাঞ্চ বা ডিরেক্টরের নির্দেশ মেনে ছুটির দিনেও অফিসারদের অফিসে আসতে হবে। ছুটির দিনে কাজের প্রয়োজন পড়তেই পারে। তখন অফিসারদের নির্দেশ দেবে সংশ্লিষ্ট ব্রাঞ্চ। ওই দিন কতজন কর্মী উপস্থিত থাকবেন সেটার তালিকাও সংশ্লিষ্ট শাখার প্রধানকে ছুটির আগের দিন বিকেল ৪টের মধ্যে জি-এ শাখায় পাঠাতে হবে। এমনকী দরকার পড়লে ওই দপ্তরের গাড়ির চালকদেরও যুক্ত করতে হবে।

স্বাস্থ্য দপ্তরে চাকরি করলেও সাপ্তাহিক ছুটি এবং সরকারি ছুটি পেয়ে থাকেন অফিসার এবং কর্মীরা। কিন্তু সবাই যদি ছুটিতে থাকেন তাহলে জরুরি প্রয়োজনে দপ্তর ফাঁকা থাকবে। এই সংস্কৃতি এবার বদলাতে চায় স্বাস্থ্য দপ্তর। কদিন আগেই স্বাস্থ্য দপ্তরে আসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকে সমস্ত হাসপাতালে মনিটরিং করার জন্য আধুনিক কন্ট্রোল রুম গড়ে তোলার কথা বলেছিলেন। যাতে রেফার ঠেকানো যায়। আর তা সাতদিন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে। সেই কাজটি ছুটির দিনেও করতে হবে। সেই প্রেক্ষিতে এই নির্দেশিকা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।


তাছাড়া স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশিকায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ছুটির দিনে যে অফিসাররা এবং কর্মীরা অফিসে আসবেন, তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সবরকম ব্যবস্থা করা থাকবে অফিসেই। পশ্চিমবঙ্গ স্টেট হেলথ অ্যান্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার সমিতির তহবিল থেকেই যাবতীয় খরচ করা হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের প্রধান সচিবের সই করা নির্দেশিকা দপ্তরের সমস্ত অফিসার, নানা ডিরেক্টরেট এবং প্রশাসনিক শাখার কাছে ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য, কদিন আগেই সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় অনুরোধ করেছিলেন, সপ্তাহে ৯৬ ঘণ্টা ডিউটি করতে। সেই প্রেক্ষিতে এই নির্দেশিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।