পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক অলিন্দে এখন নতুন হাওয়া। এক সময় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের প্রশাসনিক দর্শনের পরিচয় ছিল ‘ডু ইট নাও’ স্লোগানে। পরবর্তী ১৫ বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের অন্যতম বার্তা ছিল, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। আর এবার, রাজ্যে এক মাসের বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মন্ত্রীদের সামনে তুলে ধরলেন নতুন কর্মসংস্কৃতির রূপরেখা— ‘‘ফাইল পড়ুন, বুঝুন, কিন্তু কাজ ফেলে রাখবেন না।’’
নতুন সরকারের মন্ত্রীসভায় অভিজ্ঞতার নিরিখে চিত্রটা কিছুটা আলাদা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বর্ষীয়ান নেতা তাপস রায় ছাড়া অধিকাংশ মন্ত্রীরই প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলানোর পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। সেই কারণেই প্রশাসনের খুঁটিনাটি, ফাইল পরিচালনার নিয়মকানুন এবং সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া হাতে-কলমে শেখাতে সল্টলেকের অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে (ATI) আয়োজন করা হয় বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরের।
সকাল ১১টা থেকে দুপুর ৩টে পর্যন্ত চলা ওই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে মন্ত্রীদের শেখানো হয় প্রশাসনের ‘এ-বি-সি-ডি’। সরকারি ফাইলে কী ভাবে নোট লিখতে হয়, কোন ফাইল কোন পর্যায়ে পাঠাতে হয়, কী ভাবে সিদ্ধান্ত নথিবদ্ধ করতে হয়— সবই বিশদে তুলে ধরেন রাজ্যের শীর্ষ আমলারা। প্রশিক্ষকের ভূমিকায় ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত-সহ বিভিন্ন দফতরের অভিজ্ঞ সচিবরা।
আমলাদের পাঠ শেষ হওয়ার পর মঞ্চে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারের কাজের গতি, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরেন তিনি। সূত্রের খবর, মন্ত্রীদের উদ্দেশে শুভেন্দুর বার্তা ছিল একেবারে স্পষ্ট— টেবিলে ফাইল ফেলে রাখা চলবে না। কোনও বিষয়ে সংশয় থাকলে সচিবদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে, তাঁদের মতামত নিতে হবে। প্রয়োজনে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের সাহায্যও নেওয়া যাবে। কিন্তু কাজ আটকে রাখা বা অযথা বিলম্ব করার কোনও সুযোগ নেই।
নতুন মন্ত্রীদের নিয়ে এই বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যত সরকারের প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রতিফলন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, সরকারের প্রথম মাসেই মন্ত্রীদের জন্য এমন প্রশিক্ষণ শিবির আয়োজনের মধ্যে দিয়ে প্রশাসনিক দক্ষতা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের উপর জোর দেওয়ার বার্তাই দিতে চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী। এখন দেখার, এই প্রশিক্ষণের পর নতুন মন্ত্রীরা প্রশাসনের বাস্তব ময়দানে কতটা দ্রুত নিজেদের মানিয়ে নিতে পারেন।