বাংলার প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ছোট কিন্তু রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা নিয়ে প্রশাসনিক পথচলা শুরু করলেন শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শপথ নেন তিনি। তাঁর সঙ্গে শপথ নেন আরও পাঁচ মন্ত্রী। সংখ্যায় ছোট হলেও এই মন্ত্রিসভায় আঞ্চলিক ভারসাম্য, মহিলা প্রতিনিধিত্ব, মতুয়া, রাজবংশী এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্বাধীনতার পর এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠন করল। একই সঙ্গে দীর্ঘ ৫৫ বছর পরে কলকাতার বাইরে থেকে আসা কোনও নেতা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হলেন। পূর্ব মেদিনীপুরের শুভেন্দু অধিকারী মূলত নন্দীগ্রাম আন্দোলনের মাধ্যমে রাজ্য রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠেন। সেই আন্দোলনই একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতায় পৌঁছতে সাহায্য করেছিল। আর এখন সেই শুভেন্দুই বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী।
মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামাণিক, অশোক কীর্তনিয়া এবং ক্ষুদিরাম টুডু। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রতিটি মুখ নির্বাচনের পিছনেই রয়েছে স্পষ্ট সামাজিক ও রাজনৈতিক সমীকরণ।
দিলীপ ঘোষকে মন্ত্রিসভায় আনা হয়েছে দলের পুরনো সংগঠক এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের স্বীকৃতি হিসেবে। রাজ্যে বিজেপির সংগঠন বিস্তারে তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির উত্থানের ক্ষেত্রেও তিনি বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন।
অন্যদিকে অগ্নিমিত্রা পালকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করে মহিলা শক্তিকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিয়েছে বিজেপি। আসানসোল দক্ষিণের এই বিধায়ক দীর্ঘদিন বিজেপির মহিলা মোর্চার নেতৃত্বে ছিলেন। ফ্যাশন ডিজাইনার থেকে সক্রিয় রাজনীতিতে উঠে এসে তিনি এখন রাজ্যের অন্যতম পরিচিত মহিলা মুখ।
উত্তরবঙ্গ এবং তফসিলি জাতির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন নিশীথ প্রামাণিক। রাজবংশী সম্প্রদায়ের মধ্যে তাঁর প্রভাব উল্লেখযোগ্য। কোচবিহারের মাথাভাঙা কেন্দ্র থেকে জয়ী নিশীথ একসময় কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীও ছিলেন।
মতুয়া ভোটব্যাঙ্কের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি হিসেবে মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়া। উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে মতুয়া সমাজ দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বিবেচিত।
অন্যদিকে, জঙ্গলমহল এবং আদিবাসী সমাজের প্রতিনিধিত্ব করছেন বাঁকুড়ার রানিবাঁধের বিধায়ক ক্ষুদিরাম টুডু। তিনি সাঁওতাল সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। শপথ নেওয়ার সময় নিজের মাতৃভাষা ব্যবহার করেও আলাদা বার্তা দিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংখ্যায় ছোট হলেও এই মন্ত্রিসভার মাধ্যমে বিজেপি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে সামাজিক ভারসাম্য এবং আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্বকে গুরুত্ব দিয়েই তারা বাংলায় রাজনৈতিক ভিত্তি আরও শক্ত করতে চাইছে।