পালাবদলের পরে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে রাজ্য কী পদক্ষেপ নেয় সেদিকে নজর রয়েছে সকলের। এরই মধ্যে সেই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ২০৭তম জন্মবার্ষিকীতে পশ্চিম মেদিনীপুরের বীরসিংহ গ্রামে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে একটি জনসভা থেকে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য চলতি বছরে ১২০০ কোটি টাকা মঞ্জুরের কথা শুভেন্দু ঘোষণা করেন।
জনসভায় উপস্থিত হয়ে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সভা থেকে তিনি বীরসিংহ গ্রামকে ঢেলে সাজানোর জন্য বিভিন্ন প্রকল্প ঘোষণা করেন। এদিন হেলিকপ্টারে ঘাটালের বন্যা কবলিত এলাকা ঘুরে দেখেন শুভেন্দু অধিকারী। ঘাটালে বন্যা কবলিত এলাকায় যে কাঁচা বাড়িগুলি রয়েছে, তার একটি তালিকা তৈরির নির্দেশ দেন। প্রত্যেকের জন্য ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ করেন। যেসব কৃষকদের ফসলের ক্ষতি হয়েছে তাঁদেরও নাম নথিভুক্ত করতে বলা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বন্যা কবলিত এলাকায় যত কাঁচাবাড়ি রয়েছে, জেলাশাসক বিডিওদের সাহায্য নিয়ে তার তালিকা তৈরি করবে। পুলিশের কাছ থেকেও এ ব্যাপারে ইনপুট নেওয়া যাবে। শুভেন্দু বলেন, ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এর আগে ভাষণেই সীমাবদ্ধ ছিল। এখন তার কাজ হবে। চলতি বছর ১২০০ কোটি টাকা মঞ্জুর করা হল। ভারত সরকার ৫০ শতাংশ দেবে। বাকি ৫০ শতাংশ দেবে রাজ্য সরকার। ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট থেকেও কিছু টাকা পাওয়া যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে। ঘাটাল, দাসপুরের বিধায়ককে বলব দ্রুত ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান কার্যকর করতে হবে। পুজোর পরে আর বৃষ্টি হবে না। কাজ তাড়তাড়ি শুরু করে জুন মাসের মধ্যে কাজ এগিয়ে নেওয়া দরকার।’ রাজ্যে নতুন বিনিয়োগ ও শিল্প সম্ভাবনার কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, রিলায়েন্সের মতো বড় শিল্পগোষ্ঠী পশ্চিমবঙ্গে অনেক বিনিয়োগ করবে। এর জন্য রিলায়েন্সের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল কলকাতায় আসছে।
শুভেন্দু বলেন, ‘বিগত সরকারের ভুল ও ভ্রান্ত নীতির কারণেই আজ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে আমাদের রাজ্য অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে। বাল্যবিবাহের হার বৃদ্ধির দিক থেকেও রাজ্য উপরের সারিতে রয়েছে। আমাদের এই সরকারের আমলে সব দিক থেকে সামগ্রিক রূপান্তর ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।’ অন্যদিকে, বিদ্যাসাগরের জন্মস্থান বীরসিংহকে মানুষের কাছে আকর্ষিত করতে উদ্যোগ নিচ্ছে রাজ্য। সেখানকার রাস্তাঘাট, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন করবে সরকার। গ্রামে সোলার লাইট বসানো হবে।
আরও পড়ুন: নন্দীগ্রামে ভোটের আগে বড় স্বস্তি কংগ্রেসের, জামিন মিলন প্রধানের
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যাসাগরের জন্মভিটেকে একটি আদর্শ গন্তব্যস্থল করতে চাই। বিদ্যাসাগরের বইগুলি কিনুন। স্কুলের লাইব্রেরি ভরিয়ে দিন।’ গ্রন্থাগারগুলিতে এপাং ওপাং ঝপাং বই না রেখে বিদ্যাসাগরের লেখা বই রাখার কথা জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।