প্রাক্তন আইপিএস অফিসার তথা বর্তমান তৃণমূল নেতা প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ‘আপত্তিকর, ভিত্তিহীন ও সম্মানহানিকর’ মন্তব্য করার অভিযোগ। এই ঘটনায় নন্দীগ্রামের বিধায়ক ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের মালদহের চাঁচল থানায়। শুক্রবার এখানে বিজেপির এক জনসভা থেকে শুভেন্দুর এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য জনসমক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। এর পরই তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের আর্জি জানিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রসূন।
মালদহ জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বিজেপি নেতা ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর ব্যক্তিগত সম্মান নষ্ট করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর দাবি, সভামঞ্চ থেকে দেওয়া মন্তব্য শুধু মানহানিকরই নয়, সামাজিক সম্প্রীতিতেও আঘাত করার মতো। উত্তেজনাকর ভাষা ব্যবহার করে জনমানসে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
সভায় শুভেন্দু আরও বলেন, ‘গোটা রাজ্যের সনাতনীরা যদি উত্তর মালদহকে দেখে এগিয়ে আসেন, তাহলে ২০০ নয়, ২২০টি আসনে জিতবে বিজেপি।’ নন্দীগ্রাম ও তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের ভোটের পরিসংখ্যান টেনে এনে তিনি হিন্দু ভোটের শতাংশ নিয়েও মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল যে প্রার্থীই দিক, তারা ওই এলাকায় সর্বোচ্চ কুড়ি হাজার ভোট পাবে।
ওই জনসভা থেকেই শুভেন্দু অধিকারী স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) ইস্যুতে তৃণমূলকে আক্রমণ করেন। তাঁর দাবি, ভুয়ো ভোটারদের আড়াল করতে শাসকদল মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু এ বার সেই চেষ্টা সফল হবে না। পাশাপাশি উত্তর মালদহ লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী খগেন মুর্মুর জয়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি ভোটারদের ধন্যবাদ জানান।
শুভেন্দুর কথায়, ‘খগেনদাকে হারিয়ে দিত ভুয়ো ভোটে। একটা দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ অফিসার ছিল। বালুরঘাটে গেলে যাকে সকলে বলে চরিত্রহীন প্রসূন। তিনি এখন নেতা হয়েছেন। রাজ্য সরকারের পোস্টেও আছেন। ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা বেতন পাচ্ছেন। আবার চাঁচল-হরিশ্চন্দ্রপুরে তৃণমূলের কো-অর্ডিনেটরও হয়েছেন।’
তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়েছে, বিরোধী দলনেতার এই ধরনের মন্তব্য রাজনৈতিক শালীনতার সীমা ছাড়িয়েছে। আইনের পথেই এর জবাব দেওয়া হবে। অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।