রাজ্যে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ, চাঁচলে তৃণমূলকে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

নিজস্ব সংবাদদাতা, চাঁচল, ২ জানুয়ারি— কনকনে শীতের মধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ চড়তে শুরু করেছে। বছরের দ্বিতীয় দিন থেকেই রাজনৈতিক পারদ চড়িয়ে দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার মালদহের চাঁচলে বিজেপির ‘পরিবর্তন সংকল্প’ সভার মঞ্চ থেকে সরাসরি তৃণমূলকে হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। বদলের পর বদলা হবে বলে হুঙ্কার দিয়ে দাবি করলেন, বিহার ও ওড়িশার পর এ বার বাংলাতেও পরিবর্তন আসবে।

চাঁচলের সভায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দুর বক্তব্য, ‘বিহার, ওড়িশার পর বাংলা সাফ হবে। এপ্রিলের পর তৃণমূল বিরোধী আসনে বসবে।’ পাশাপাশি মালদহ উত্তরের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর উপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘ত্রাণ দিতে গিয়ে খগেন মুর্মুকে রক্তাক্ত করা হয়েছিল। সেই রক্তের বদলা নিতে হলে রাজ্যে বদল আনতেই হবে।’ শুধু তৃণমূল নয়, সভার অনুমতি ঘিরে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন বিরোধী দলনেতা। মালদহের মহকুমা শাসককে নাম না করে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘নামটা লেখা থাকল। ভোটের পর দেখা হবে।’

উল্লেখ্য, নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে প্রথমে এই সভার অনুমতি দিতে চায়নি পুলিশ। পরে বিজেপি কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলে শর্তসাপেক্ষে সভার অনুমতি মেলে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দুপুর তিনটের মধ্যেই সভা শেষ করতে হয়।


শুভেন্দুর এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক দেবাংশু ভট্টাচার্য পালটা কটাক্ষ করে বলেন, ‘লোকসভা আর বিধানসভার ফল এক নয়। পুলিশের অনুমতি ছাড়া সভা করলে কী হতে পারে, তা আসানসোলে সবাই দেখেছে। পুলিশ অনুমতি না দিলে তার পিছনে কারণ থাকে।’

নতুন বছরের শুরুতেই চাঁচলের সভা ঘিরে যে রাজনৈতিক বিবাদ লক্ষ্য করা গেল, তা যে আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে সংঘাত আরও বাড়বে, সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট।