শিয়ালদহের সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ভর্তি দুর্নীতিকে কেন্দ্র করে বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগের তির ঘুরে গিয়েছে শিয়ালদহ এলাকার তৃণমূল নেতা দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর ছেলে শিবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। কলেজের ছাত্রছাত্রীদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কলেজে ভর্তিকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চালানো হত, যার নিয়ন্ত্রণে ছিলেন দেবাশিস ও তাঁর ছেলে। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই শিবাশিস পলাতক বলে জানা গিয়েছে।
অভিযোগ, কলেজ চত্বরে দাদাগিরি, তোলাবাজি এবং ছাত্রভর্তিকে কেন্দ্র করে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করা হত। সেই টাকায় সারা বছর ফূর্তি চলত বলেও দাবি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। সংগঠনের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কলেজে ছাত্রভর্তিকে কেন্দ্র করে একটি দুর্নীতির চক্র সক্রিয় ছিল। কম নম্বর পাওয়া ছাত্রছাত্রীদের টাকার বিনিময়ে কলেজে ভর্তি করানো হত। মেধার ভিত্তিতে তালিকা প্রকাশের পরিবর্তে অর্থের বিনিময়ে আসন বণ্টন করা হত বলেও অভিযোগ উঠেছে।
কলেজের পড়ুয়াদের একাংশের দাবি, কারও কাছ থেকে ছয় হাজার টাকা, কারও কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা, এমনকি কোনও কোনও ক্ষেত্রে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, কার্যত লটারির মতো কলেজের আসন বিক্রি করা হত। এই কাজে কলেজের কিছু কর্মী এবং অধ্যাপকেরও যোগসাজশ ছিল বলে দাবি ছাত্রছাত্রীদের একাংশের।
এদিকে সুকান্ত বাহাদুর নামে এক ছাত্রের বিরুদ্ধেও টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নেপালের বাসিন্দা সুকান্ত সরাসরি ভর্তি-ইচ্ছুক ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করতেন বলে অভিযোগ। তাঁর অধীনে একাধিক দালাল কাজ করত, যারা উচ্চমাধ্যমিকের পরে ভর্তি হতে না পারা ছাত্রছাত্রীদের খুঁজে এনে কমিশনের বিনিময়ে ভর্তি করানোর ব্যবস্থা করত। যদিও সুকান্ত সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি কোনও পদাধিকারী ছিলেন না, কলেজে কেরানির কাজ করতেন মাত্র। তাঁকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ফাঁসানো হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, ভর্তি দুর্নীতির তদন্তে নতুন মোড় এসেছে কলেজের ইউনিয়ন রুম থেকে বিপুল পরিমাণ পোড়া ও ক্ষতিগ্রস্ত টাকা উদ্ধারের ঘটনায়। মঙ্গলবার কলেজের পিছনে অবস্থিত ইউনিয়ন রুম থেকে দুটি ব্যাগ উদ্ধার হয়। সেই ব্যাগে ১০০ ও ৫০০ টাকার বিপুল পরিমাণ নোট ছিল, যার অধিকাংশই পোড়া অথবা পোকায় কাটা অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া টাকার উৎস ও প্রকৃতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ। কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ দমন) সোমা দাসমিত্র জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই মামলা রুজু হয়েছে এবং তদন্ত এগোচ্ছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তদন্তে কাউকে রেয়াত করা হবে না।