‘দ্রুত শুনানির চেষ্টা করা হবে’, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মমতার মামলায় বলল সুপ্রিম কোর্ট

Mamata Banerjee Photo-SNS

নির্বাচন কমিশন তৃণমূল কংগ্রেসের নাম-প্রতীক উপনির্বাচনের প্রাক্কালে ফ্রিজ করে দিয়েছে। আর তার জেরে সুপ্রিম কোর্টে মামলা ঠুকেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই মামলার প্রেক্ষিতে সোমবার প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে তা গ্রহণ করে। দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হয়েছে। মমতার পক্ষ থেকে দ্রুত শুনানির আর্জি জানান আইনজীবী কপিল সিব্বল। তা শুনে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, ‘সব পক্ষকে জানানো হোক। দ্রুত শুনানির চেষ্টা করা হবে।’

এদিন আইনজীবী কপিল সিব্বল জানান, দলের প্রতীক ফ্রিজ করা হয়েছে। তার আগেই উপনির্বাচনের নোটিফিকেশন জারি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ফ্রিজ করা হয়েছে প্রতীক। কী সব চলছে দেখুন। দলের পক্ষ থেকে আগেই বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। তারপরেও প্রতীক ফ্রিজ করা হয়েছে। দ্রুত এই মামলার শুনানি করা হোক। আইনজীবী কপিল সিব্বলের আর্জির সাড়া দিয়ে প্রধান বিচারপতির জবাব, ‘আমরা চেষ্টা করব এই সপ্তাহে শুনানি করার। শুনানির সময়ে আপনি সওয়াল করবেন।’ নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আপাতত দলের নাম হিসেবে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং প্রতীক জোড়াফুল ‘ফ্রিজ’ করা হচ্ছে। তৃণমূলের ‘জোড়াফুল’ আপাতত ব্যবহার করা যাবে না। দল কার, আসল তৃণমূল কে, দলের তহবিলের মালিকানা কোন গোষ্ঠীর-সেসব চূড়ান্ত হওয়ার পরেই সব মিলবে।

এরপর গত ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে বিজ্ঞপ্তি জারি করে নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দেয়, জোড়াফুল প্রতীক এবং সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস কোনওটিরই অস্তিত্ব নেই। মমতার শিবিরের নাম ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’, প্রতীক ‘ফুটবলার’। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের নাম ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’, প্রতীক ‘খাম’। আগামী ৬ অক্টোবর পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠকে করে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে জানান, নিজের হাতে গড়া দল ও প্রতীকের অধিকার তিনি ছাড়বেন না। শেষপর্যন্ত লড়ে যাবেন। আর শুক্রবার রাতে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় সর্বোচ্চ আদালতে মামলা করেন।


তাছাড়া প্রতীক-নাম বিতর্কে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যান রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। এই মামলায় যুক্ত করা হয় বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। গোটা বিষয়টি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘গণতন্ত্রের ইতিহাসে কালো দিবস। রাজ্য-রাজনীতিতে যা ঘটছে সেটা দুর্ভাগ্যজনক, অসাংবিধানিক, গণতন্ত্র-বিরোধী এবং রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট। আমাদের আগে উদ্ধব ঠাকরের দলের প্রতীক কেড়েছে। এনসিপি-কে ভেঙেছে। এবার আমাদের।’