স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে অপহরণ ও খুনের মামলায় রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মণকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, আগামী ২৩ জানুয়ারির মধ্যে তাঁকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। এই মামলায় তাঁকে আগাম জামিন দেয়নি শীর্ষ আদালত।
সোমবার বিচারপতি রাজেশ বিন্দল ও বিচারপতি বিজয় বিশ্নোইয়ের বেঞ্চ জানায়, অভিযুক্তকে আগে আত্মসমর্পণ করতে হবে। আত্মসমর্পণের পর তিনি জামিনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে পুলিশ চাইলে নিম্ন আদালতে অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবে।
উল্লেখ্য, গত ২৯ অক্টোবর নিউটাউনের যাত্রাগাছি এলাকা থেকে স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় স্বপনের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এখনও পর্যন্ত পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্তে উঠে আসে রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মণের নাম। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এই মামলায় তাঁকে ‘মূল অভিযুক্ত’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় প্রশান্ত প্রথমে বারাসত আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেন। বারাসত আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করলেও বিধাননগর পুলিশ তার বিরোধিতা করে কলকাতা হাইকোর্টে যায়। হাইকোর্ট প্রশ্ন তোলে, কোন যুক্তিতে আগাম জামিন দেওয়া হল। শেষ পর্যন্ত বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ আগাম জামিন খারিজ করে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিডিওকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।
তবে সেই সময়সীমার মধ্যেও প্রশান্ত আত্মসমর্পণ করেননি। পরে হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। কিন্তু শীর্ষ আদালতও আগাম জামিনে সায় না দিয়ে আত্মসমর্পণের নির্দেশই বহাল রাখল। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই রাজগঞ্জের বিডিও–কে আত্মসমর্পণ করতে হবে।