জমি কেলেঙ্কারিতে যুক্ত সুমিত!

বেআইনি ভাবে জমি দখল মামলায় মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরাকে আগেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের দু’পাশে বিপুল পরিমাণ জমির রেকর্ড পরিবর্তন করে দিয়েছেন তিনি। বেশ কিছু জমি অস্তিত্বহীন ব‍্যক্তিদের নামে করা হয়েছে। তাতেও ওই তৃণমূল নেতার যোগসাজশে রয়েছে বলে অভিযোগ।
এই জমির বেশিরভাগই সরকারের। সেই মামলার তদন্তেই পুলিশ তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের নাম জড়িয়েছে। তাঁকে খুঁজতেই পুলিশ শুক্রবার ভোররাতে কালীঘাটের বাড়িতে অভিযান চালায়।
গত ৫ জুন এক ব‍্যক্তি পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, ২০২১ সালে তিনি একটি জলের কারখানা খোলার জন্য জমি চিহ্নিত করেন।  তারপরে তিনি মেদিনীপুরের বিধায়ক সুজয় হাজরার সঙ্গে তাঁর অফিসে যোগাযোগ করেন। সেদিন একটি চুক্তিপত্র দেখিয়ে কারখানার জন‍্য চিহ্নিত জমিটি সুজয় হাজরা নিজের বলে দাবি করেন।
অভিযোগ, কোনও চুক্তিপত্র ছাড়া ওই ব‍্যক্তির কাছ থেকে দশ লক্ষ টাকা নেন। পরে জমির মালিকানা না পাওয়ায় অভিযোগকারী আবার সুজয় হাজরার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।  টাকাও ফেরত দেবেন না বলেও জানিয়ে দেন সুজয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, পরবর্তীতে তিনি জমিটি নিয়ে খোঁজখবর করে জানতে পারেন— সেটি সরকারি জমি।
লিখিত অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, শালবনি ও মেদিনীপুর সদর ব্লকের একাধিক মৌজায় জাল দলিল, ভুয়ো স্ট্যাম্প, নকল সিলমোহর এবং এলআর রেকর্ড পরিবর্তনের মাধ্যমে সরকারি জমি দখল করা হয়েছে। বেশিরভাগ জমি ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের দু’পাশে রয়েছে। এই জমি দখলের নেপথ্যে বড় সিন্ডিকেট রয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, অস্তিত্বহীন ব্যক্তিদের নামে সেসব নথি তৈরি করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরা-সহ সাত জনের নামে ওই ব্যক্তি খানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। দখল করা জমিগুলিকে বিস্তারিত ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই মামলায় তদন্ত করতে গিয়েই তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের নাম উঠে এসেছে। সুমিতের সঙ্গে সুজয়ের কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।
পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের কিছু কর্মীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সুমিত রায় প্রভাব কী সেক্ষেত্রে খাটিয়েছিলেন তা তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তল্লাশি চালিয়ে তাঁদের হাতে কিছু মেলেনি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের মোবাইল ফোনের টাওয়ারের শেষ অবস্থান কালীঘাটের বাড়িতে পাওয়া গিয়েছিল। তা দেখেই পুলিশ সেখানে যায়। কিন্তু বর্তমানে সুমিতের ফোন বন্ধ রয়েছে।