পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এবার আদালতে প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ জানাল ইডি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ব্যাঙ্কশাল আদালতে জানায়, সুজিত বসুর একটি রেস্তরাঁ ছিল। করোনার সময় ওই রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকলেও সেখানে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। শুধু তাই নয়, সুজিত বসু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল অঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিটের হদিশ মিলেছে, যার বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি প্রাক্তন মন্ত্রী। পাশাপাশি কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের তথ্যও মিলেছে। ওই সমস্ত লেনদেনের বিষয়েও প্রাক্তন মন্ত্রী কোনও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে দাবি তদন্তকারীদের।
দীর্ঘ সাড়ে ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর সোমবার রাতে সুজিত বসুকে গ্রেপ্তার করে ইডি। মঙ্গলবার তাঁকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করা হলে ১০ দিনের ইডি হেফাজতের আবেদন জানায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ইডির আইনজীবীর দাবি, সুজিত বসু অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি। জামিন পেলে তিনি তদন্তে প্রভাব ফেলতে পারেন, এমনকি সাক্ষ্যপ্রমাণ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ইডির আর্জি মেনে, সুজিত বসুকে ১০ দিনের ইডি হেফাজত রাখার নির্দেশ দেয় আদালত। আগামী ২১ মে পর্যন্ত ইডি হেফাজতে থাকতে হবে প্রাক্তন দমকলমন্ত্রীকে। আদালতে ইডি জানায়, পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত অয়ন শীলের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, সুজিত বসু একাধিক চাকরিপ্রার্থীর নাম সুপারিশ করেছেন। সেই তালিকায় রয়েছে নিতাই দত্তের নামও। তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, সুজিতের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং পরিবারের আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখে কোটি কোটি টাকা জমার তথ্য পাওয়া গিয়েছে।
অন্যদিকে, আদালতে পাল্টা সওয়াল করেন সুজিতের আইনজীবী। তাঁর দাবি, যে সমস্ত নথি ও তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর মক্কেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেগুলি ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যেই তদন্তকারীদের হাতে এসেছিল। তাহলে ২০২৬ সালের মে মাসে হঠাৎ গ্রেপ্তার কেন? তাঁর অভিযোগ, এই পদক্ষেপের পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে। আইনজীবীর আরও দাবি, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআইয়ের চার্জশিটে সুজিত বসুর নাম নেই। এর পরই তিনি আদালতের কাছে প্রশ্ন তোলেন, শুধুমাত্র জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন দেখিয়ে ডেকে পাঠিয়ে ইডি কাউকে গ্রেপ্তার করে হেফাজতে নিতে পারে কিনা?