সুজিত বসুকে ফের তলব ইডির সঙ্গে ডাকা হয়েছে রথীনকেও

পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের তলব করা হল দমকলমন্ত্রী তথা বিধাননগরের তৃণমূল প্রার্থী সুজিত বসুকে। ইডি তাঁকে ৬ মে পুনরায় হাজিরা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। শুক্রবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার সময়ই তাঁকে এই নির্দেশ জানানো হয়। পাশাপাশি অস্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত একাধিক নথি সঙ্গে করে আনার কথাও বলা হয়েছে, যা তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখবেন।

এর আগে একাধিকবার সুজিত বসুকে তলব করেছিল ইডি। তবে তিনি দাবি করেছিলেন, নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে সাড়া দিতে পারেননি। ভোটপর্ব শেষ হতেই শুক্রবার তিনি হাজির হন ইডির দপ্তরে। শুধু তিনি নন, তাঁর পুত্র সমুদ্রকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে। অতীতে সুজিতের বাড়ি ও দপ্তরেও তল্লাশি চালিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।

বারবার তলব সত্ত্বেও হাজিরা না দেওয়ায় বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। সুজিত বসু হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন এবং ভোটের ব্যস্ততার কথা জানান। বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, ১ মের মধ্যে তাঁকে ইডি দপ্তরে হাজিরা দিতে হবে। সেই নির্দেশ মেনেই তিনি শুক্রবার হাজির হন।


সকাল ১০টা ২৫ মিনিট নাগাদ দপ্তরে প্রবেশ করে টানা প্রায় ৯ ঘণ্টা সেখানে ছিলেন সুজিত। সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ বেরিয়ে এসে তিনি জানান, ‘আমি সাক্ষী হিসেবে এসেছিলাম। তদন্তে সহযোগিতা করার জন্য ডাকা হলে অবশ্যই আসব।‘ তবে একই সঙ্গে তাঁর বার্তা, ‘হেনস্থা করার জন্য যেন ডাকা না হয়।‘ তিনি আরও বলেন, ‘ব্যবসা করা অপরাধ নয়, চুরি করাই অপরাধ।‘

এই মামলায় শুধু সুজিত বসুই নন, রাজ্যের আর এক মন্ত্রী রথীন ঘোষকেও তলব করেছে ইডি। তাঁকেও এর আগে একাধিকবার ডাকা হয়েছিল, কিন্তু ভোটের কাজে ব্যস্ততার কারণে সময় চেয়েছিলেন। আগামী সোমবার ভোটের ফলপ্রকাশের পরদিন তাঁকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবরে রথীন ঘোষকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ইডি এবং তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। অন্যদিকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি ও ২০২৫ সালের অক্টোবরে সুজিত বসুর বাড়ি, দপ্তর এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালায় তদন্তকারী সংস্থা। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলা ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে।